দেশের নারী ক্রিকেটারদের জন্য একটি নিরাপদ, হয়রানিমুক্ত এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল ক্রীড়া পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ (বিসিবি) সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ২০০৯ সালের হাইকোর্টের রায়ের নির্দেশনার আলোকে যৌন হয়রানি বিরোধী নীতিমালা অবিলম্বে কার্যকর করতে বিসিবিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন আহমেদ অসীম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্ট বিসিবিকে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দিয়েছেন। এই আদেশ বাস্তবায়ন করে বিসিবিকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সিনিয়র ক্রিকেটার জাহানারা আলমের তোলা যৌন হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর আগে জাহানারা আলমের অভিযোগের পর বিসিবি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তারা কোনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি। বিসিবির এই দীর্ঘসূত্রতা ও নিষ্ক্রিয়তায় সংক্ষুব্ধ হয়ে স্পোর্টস শুটার সাবরিনা সুলতানা জনস্বার্থে হাইকোর্টে এই রিটটি দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে সাবেক নির্বাচক ও টিম ম্যানেজার মনজুরুল ইসলামসহ বিসিবির কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন জাহানারা আলম। বিসিবি তখন ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে কমিটি গঠন করলেও পরবর্তীতে কয়েক দফায় সময় বাড়িয়েও তদন্ত শেষ করতে ব্যর্থ হয়।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.