১১ বছরের শিশু গৃহকর্মী মোহনাকে পৈশাচিক নির্যাতনের মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও শফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে এই আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো অন্য দুই আসামি হলেন ওই বাসার গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগম। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে উত্তরা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোমের মিয়া আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন তাদের জামিন প্রার্থনা করে বলেন, শফিকুর রহমান একজন সরকারি কর্মকর্তা, তিনি কাজের চাপে বাসায় থাকেন না। তিনি বা তার অসুস্থ স্ত্রী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। ভিকটিমকে অক্ষত অবস্থায় পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে। তারা এসবের কিছুই জানেন না।
রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে আদালতে বলেন, পেটের দায়ে ১১ বছরের শিশুটি ওই বাসায় কাজে গিয়েছিল। ঢোকার পর থেকেই তাকে নিয়মিত নির্যাতনের মাধ্যমে জর্জরিত করা হয়েছে। তার শরীরের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগী মোহনার বাবা হোটেল কর্মচারী গোলাম মোস্তফার দায়ের করা মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত বছরের জুন মাসে মোহনাকে ওই বাসায় কাজে দেওয়া হয়। আসামিরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মোহনার বিয়েসহ যাবতীয় খরচ তারা বহন করবেন। গত ২ নভেম্বর মোহনাকে শেষবার সুস্থ অবস্থায় দেখেছিলেন তার বাবা। এরপর থেকে আর দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
গত ৩১ জানুয়ারি মোহনা অসুস্থ জানিয়ে তাকে নিয়ে যেতে বলেন বিথী। সন্ধ্যায় মোহনাকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হলে দেখা যায়, তার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম। মোহনা ঠিকমতো কথা বলতে পারছিল না। পরে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহনা জানায়, গত নভেম্বর মাসে তার বাবা দেখা করে যাওয়ার পর থেকেই শফিকুর রহমান ও বিথীসহ অন্যরা সামান্য কারণে তাকে মারধর করতেন। এমনকি আগুনে তপ্ত খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে তাকে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.