নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনে এমন এক মানদণ্ড স্থাপিত হবে, যা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পরিবেশ এমন উন্নত করতে হবে যাতে সবাই আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসতে পারে।

সোমবার বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট- ২০২৬’ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন আইজিপি বাহারুল, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ ও বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ফ্যাসিস্টের দোসর, দুষ্কৃতকারী ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনি পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য নির্বাচন পূর্ববর্তী ৪ দিন নিবিড় টহল পরিচালনা করতে হবে। চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় টহল কার্যক্রম বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে নিবিড়ভাবে পরিচালনা করতে হবে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারিসহ বিভিন্ন অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, নির্বাচন কমিশন, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার, গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, কোস্টগার্ডসহ বিচারিক ও ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ সকল স্তরের বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে পারস্পরিক সুসম্পর্ক, সমন্বয়, তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ টহলসহ ‘সমন্বিত কার্যক্রম’ গ্রহণ করতে হবে। তিনি এ সময় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গ্যাপ, বিচ্যুতি, ত্রুটি, বৈষম্য, অবহেলা, দ্বন্দ্ব বরদাশত করা হবে না মর্মেও জানান।

সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি নৈতিক চরিত্র বজায় রেখে কাজ করার জন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আত্মসম্মান বজায় রেখে ইস্পাত দৃঢ়চিত্তে সকল বাধা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠানে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত ও প্রভাবিত করতে পারে দুষ্কৃতকারী ও সন্ত্রাসীদের এমন যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা ও কার্যক্রম কঠোর হস্তে দমন করার নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। পরে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বা অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়ন করা হচ্ছে। সেখানে বডি ওর্ণ ক্যামেরা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হচ্ছে। এছাড়া ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’ তো থাকছেই। গতবছর দুর্গাপূজায়ও এই অ্যাপের মাধ্যমে আমরা সাফল্য পেয়েছি। সুতরাং কেউ কোনো ধরনের অপতৎপরতা ঘটানোর চেষ্টা করলে পার পাবে না বলে জানান তিনি।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.