বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় দরপতন

বিশ্ববাজারে সোনার দামে নজিরবিহীন নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার মার্কিন বাজার খোলার পর স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে ৪ হাজার ৭০২ দশমিক ৯৫ ডলারে নেমে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার আউন্সপ্রতি সোনা ৫ হাজার ৫৯৪ ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছালেও মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এই বড় পতন ঘটল। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যবাজার সিএমই এক্সচেঞ্জে লেনদেনের মার্জিন (জামানত) বৃদ্ধি এবং ফেড চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ার্শের মনোনয়নকে এই দরপতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

সিএমই গ্রুপ সোনা ফিউচারের মার্জিন ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ শতাংশ এবং রুপার ক্ষেত্রে ১১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছে। মার্জিন বাড়লে ব্যবসায়ীদের লেনদেনের জন্য বেশি অর্থ জমা রাখতে হয়, ফলে অনেক বিনিয়োগকারী হাতে থাকা সোনা বিক্রি করে দেওয়ায় বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। কেসিএম চিফ ট্রেড অ্যানালিস্ট টিম ওয়াটারার জানান, মার্জিন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাধ্যতামূলক বিক্রির চাপ একধরনের ধারাবাহিক নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করেছে।

পাশাপাশি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত পরবর্তী ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের সম্ভাব্য নীতি নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দোদুল্যমানতা তৈরি হয়েছে। ওয়ার্শ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। বাজার ধারণা করছে, তিনি দায়িত্ব নিলে সুদহার কমানোর গতি আশানুরূপ নাও হতে পারে। সাধারণত সুদের হার কম থাকলে সোনার চাহিদা বাড়ে, কিন্তু সুদের হার কমার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বিনিয়োগকারীরা সোনার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলে গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও ধস নেমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৫ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৮০ দশমিক ২৮ ডলারে নেমেছে, যা গত বৃহস্পতিবার রেকর্ড ১২১ ডলারের উপরে ছিল। একইভাবে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও যথাক্রমে ৪.১ শতাংশ এবং ৩.৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ডলারের মান শক্তিশালী হওয়া এবং ফেডের ব্যালান্স শিট নিয়ে ওয়ার্শের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি মূল্যবান ধাতব বাজারের ওপর এই অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.