জেলায় জেলায় পাঠানো হচ্ছে ব্যালট পেপার

জুলাই অভ্যত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এ উপলক্ষে আসনভিত্তিক প্রার্থীদের নাম ও প্রতীকসহ ব্যালট পেপার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ইসি জানায়, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা থেকে ১২ জেলায় ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে। সেগুলো হলো- মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, বাগেরহাট, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, লক্ষ্মীপুর, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।

সোমবার আরও আট জেলায় ব্যালট পাঠানো হচ্ছে। এগুলো হলো- পটুয়াখালী, বরিশাল, বরগুনা, পিরোজপুর, হবিগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও গাজীপুর।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে নিরাপত্তার সঙ্গে ধাপে ধাপে ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য নির্বাচনি সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। এগুলো রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংরক্ষিত থাকবে এবং ভোটের আগের দিন কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছানো হবে।

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনে প্রায় ২৬ কোটি ব্যালট পেপার ছাপানো হচ্ছে। দুই ভোটের ব্যালট পেপার ছাপাতে মোট ব্যয় হচ্ছে ৪০ কোটি টাকা। তবে গণভোটের জন্য আলাদা করে ব্যালটের কাগজ কেনা হয়নি। সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের (ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ব্যতীত) জন্য কাগজ কেনা হয়েছিল। আপাতত এসব কাগজই গণভোটের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য পরবর্তী সময়ে আবারও কাগজ কেনা হবে বলে জানিয়েছে ইসির বাজেট শাখা।

জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তারা সুযোগ পেলে নারীদের কেমন অপমান করবে, তা একাত্তর সালে আমরা দেখেছিলাম। যাদের কাছে নারীদের সম্মান নেই, তাদের কাছে দেশ নিরাপদ হতে পারে না।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনায় বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন বিএনপি প্রধান।

তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছে, তারা কোনোভাবে নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। একটি রাজনৈতিক দলের নেতা পরিষ্কারভাবে দুই দিন আগে বলেছে, যেসকল মহিলা, যেসকল মা-বোনেরা কর্মসংস্থানের জন্য যান, তাদেরকে…। প্রিয় ভাই-বোনেরা আপনাদের সামনে আমার বলতে রীতিমতো লজ্জা হচ্ছে, এমন একটি শব্দ সে আমাদের মা-বোনদের জন্য ব্যবহার করেছে, যা আমাদের দেশের জন্য কলঙ্কস্বরূপ।

জামায়াতেও নারী আছে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, তারা তো ঘর থেকে বের হচ্ছেন। তাহলে তাদের পরিচয় কী? এখন নারীদের চিন্তা করতে হবে, তাদের (জামায়াত) কীভাবে জবাব দেবে।

সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, একটি মহল বলার চেষ্টা করছে, ভোট গণনায় সময় লাগবে। ষড়যন্ত্র আবার শুরু হয়েছে। যারা নারীদের হেয় করছে, মিথ্যা বলছে তারাই আবার ষড়যন্ত্র করছে। ছলচাতুরীর চেষ্টা করছে। সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এই অধিকার রক্ষায় সতর্ক থাকতে হবে।

বিএনপি প্রধান বলেন, ১৬ বছর অনেক আন্দোলন করেছি। গুম-খুনের শিকার হয়েছে বিএনপি। ভোটের অধিকার মানুষ প্রয়োগ করতে পারেনি। জাতীয় নির্বাচন থেকে স্থানীয় নির্বাচনেও একই অবস্থা ছিল। এখন সময় এসেছে। ১২ তারিখে মানুষ তার অধিকার প্রয়োগ করবে। বিএনপি বিশ্বাস করে কথার ফুলঝুরি নয়, দেশকে সামনের দিকে নিতে হবে।

সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। বিএনপির অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় ছিলাম। আগামী দিনে সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব দেশকে পুনর্গঠন করা। শ্রেণিপেশা নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশ গঠন করতে হবে।’

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে গৃহিণীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব, যাতে তাদের কারো মুখাপেক্ষী হতে না হয়। শিল্পনগরী মৃতনগরীতে পরিণত হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে জীবিত শিল্প নগরী হিসেবে খুলনাকে গড়ে তুলব। সেখানেও নারীদের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। তরুণদের জন্য আইটি পার্ক গড়ে তুলব। কৃষকদের কৃষি কার্ড দিতে চাই।

দেশকে পুনর্গঠনের প্রতীক ধানের শীষ মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার অভিজ্ঞতা বিএনপির আছে। একইসঙ্গে দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের করার অভিজ্ঞতা আছে বিএনপির।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.