দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সার ও কীটনাশকের যে অতিমাত্রা ব্যবহার শুরু হয়েছিল, তা এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য ‘আপদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, একসময় কৃষি কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃত্রিম সার ও কীটনাশক ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনে। কিন্তু বর্তমানে এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে নিরাপদ খাদ্য কমে গেছে এবং পশুপাখি ও মাছের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাছের উৎপাদন বাড়াতে হরমোন ব্যবহার এবং খেজুরের রসের মাধ্যমে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের মতো বিষয়গুলো বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সেটি কতটুকু নিরাপদ, তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলে গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব ড. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। তিনি তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, অনেক উৎপাদনকারী সবজিতে বিষাক্ত কীটনাশক মেশালেও নিজেরা তা গ্রহণ করেন না, যা সামগ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণকে অনিরাপদ করে তুলছে। খাদ্য সচিব ফিরোজ সরকার সভাপতির বক্তব্যে জানান, বিশ্বে প্রতি দশজনে একজন খাদ্যজনিত অসুস্থতায় ভোগেন। থাইল্যান্ডের আদলে ইউনিয়নভিত্তিক সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে শিশুদের সুস্থতা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি, সুস্থ সবল জীবন গড়ি’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে এ বছর দিবসটি পালিত হচ্ছে। সভায় বক্তারা বিএফএসএ, বিএসটিআই এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বিত তদারকি বাড়ানোর আহ্বান জানান। এছাড়া আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ‘গ্যাপ’ (Good Agricultural Practices) অনুসরণ করে উৎপাদন স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.