৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি। ওয়াশিংটনের আরোপিত ‘পাল্টা শুল্ক’ হ্রাস এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এদিন চূড়ান্ত চুক্তিতে বসছে দুই দেশ। এর আওতায় মার্কিন তুলায় তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি বোয়িং বিমান কেনা ও জ্বালানি আমদানির মতো বড় বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকছে।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

বাণিজ্য সচিব জানান, চুক্তির খসড়া প্রস্তুত এবং স্বাক্ষরের অনুমোদন চেয়ে সামারি পাঠানো হয়েছে। ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ৩৫ শতাংশ ‘পাল্টা শুল্ক’ আলোচনার মাধ্যমে গত ৩১ জুলাই ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছিল। তবে এই হার আরও কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সুবিধা পেতে বাংলাদেশকে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী কয়েক বছরে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনা, জ্বালানি তেল, এলএনজি, গম এবং তুলা আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

এলডিসি থেকে উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন দেশের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে কাজ করছে। সচিব জানান, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সাথে এফটিএ স্বাক্ষরিত হবে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ভারতের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এফটিএ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, পোশাক খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা রাতারাতি অন্য কেউ অর্জন করতে পারবে না। এছাড়া মার্কিন তুলা ব্যবহারের মাধ্যমে তৈরি পোশাকে বিশেষ শুল্ক সুবিধা (কিউমুলেশন বেনিফিট) পাওয়ার আশা করছে ঢাকা।

রপ্তানি প্রবৃদ্ধির নেতিবাচক হার প্রসঙ্গে সচিব বলেন, বিশ্ববাণিজ্যে ৩.৭ শতাংশ ঘাটতি থাকলেও বাংলাদেশের প্রভাব ১.৬ শতাংশের মতো, যা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে ভালো। যুক্তরাষ্ট্রের তুলা আমদানির পরিমাণ ইতিমধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার পথ সুগম করবে। বাণিজ্য সচিব স্পষ্ট করেন যে, বোয়িং বিমান কেনার বিষয়টি আলোচনার কাঠামোগত রূপে থাকলেও এই বাণিজ্যিক চুক্তিতে কোনো যুদ্ধবিমান বা সামরিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত নয়।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.