বিশ্ববাজারে হঠাৎ করেই সোনার দামে বড় ধরনের পতন শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার মূল্যবান এই ধাতুর দাম আউন্সপ্রতি ৪৩৪ ডলার ৪৫ সেন্ট কমেছে। গত সপ্তাহে সোনার দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে ৫ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছালেও বর্তমানে তা ৪ হাজার ৮৯৩ ডলারে নেমে এসেছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৬০০ ডলারের বেশি কমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও।
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে এই দরপতন শুরু হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানানো হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ারশকে মনোনয়ন দিতে পারেন—এমন খবরে বিনিয়োগকারীদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। এর আগে আশঙ্কা ছিল, রাজনৈতিক চাপে সুদের হার কমানো হলে ডলারের মান কমবে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়বে। এই ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পেতে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকেছিলেন। তবে ওয়ারশকে তুলনামূলক ‘নিরাপদ’ প্রার্থী হিসেবে মনে করায় সোনা, রুপা ও প্লাটিনামের দাম একযোগে কমে গেছে।
এবিসি রিফাইনারির বৈশ্বিক প্রধান নিকোলাস ফ্রাপেলের মতে, অনিশ্চিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় সোনা একটি কার্যকর বিনিয়োগ মাধ্যম হলেও এর দাম দ্রুত ওঠানামা করতে পারে। বর্তমানে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও নতুন শুল্ক আরোপের আশঙ্কায় ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে সোনার আকর্ষণ অটুট থাকলেও সাম্প্রতিক মনোনয়ন সংক্রান্ত খবরে বাজারে বড় সংশোধন এসেছে। বিশ্ব স্বর্ণ কাউন্সিলের তথ্যমতে, এযাবৎ উত্তোলিত সোনা দিয়ে মাত্র তিন থেকে চারটি অলিম্পিক সুইমিংপুল পূর্ণ করা সম্ভব, যা এর দুষ্প্রাপ্যতা ও আকর্ষণ বজায় রেখেছে।
বিশ্ববাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বাজারেও সোনার দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। দেশের বাজারে সোনার ভরি তিন লাখ টাকার দিকে ছুটলেও গত শুক্রবার ও আজ শনিবার দুই দফায় বড় ধরনের পতন হয়েছে। শনিবার সকালে সোনার দাম ভরিপ্রতি ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি। এর ফলে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৪৪ হাজার ১১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ৯ হাজার ১৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.