জাতিসংঘের ‘অত্যাসন্ন আর্থিক ধসের’ সতর্কতা মহাসচিবের

বার্ষিক চাঁদা বকেয়া থাকাসহ নানা সংকটে জাতিসংঘ ‘অত্যাসন্ন আর্থিক ধসের’ মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই ভীতি প্রকাশ করেন। গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব সংস্থাটি এক ভয়াবহ আর্থিক সংকটের সম্মুখীন এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে আর্থিক বিধিবিধানের আমূল সংস্কারে একমত হওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় সংস্থাটির আর্থিক পতনের বাস্তব সম্ভাবনা মেনে নেওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে চিঠির বিষয়ে জাতিসংঘের উপমুখপাত্র ফারহান হক বলেন, “বিগত বছরগুলোতে আমরা যেভাবে কার্যক্রম চালিয়েছি, তা অব্যাহত রাখার মতো নগদ অর্থ বা তারল্য আমাদের নেই।” জাতিসংঘের এই সংকটের সময়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোতে ওয়াশিংটনের অর্থায়ন কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কিছু জাতিসংঘ সংস্থা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার এবং ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি বিকল্প উদ্যোগ চালুর পরিকল্পনা করেছে, যা জাতিসংঘকে কোণঠাসা করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) জাতিসংঘ বিষয়ক পরিচালক লুই শারবোনো বলেন, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ অনেকটা ‘অর্থ দিয়ে সুবিধা নেওয়ার’ বৈশ্বিক ক্লাব। তিনি সরকারগুলোকে জাতিসংঘ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের মূল বাজেটের ২২ শতাংশ দেয় যুক্তরাষ্ট্র এবং ২০ শতাংশ দেয় চীন। গুতেরেস জানান, ২০২৫ সাল শেষে বকেয়া চাঁদার পরিমাণ রেকর্ড ১৫৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে জাতিসংঘ ২০২৬ সালের জন্য গত বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ কম অর্থাৎ ৩৪৫ কোটি ডলারের বাজেট অনুমোদন করেছে। তা সত্ত্বেও গুতেরেস চিঠিতে সতর্ক করেছেন যে আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সংস্থাটির নগদ অর্থ ফুরিয়ে যেতে পারে। বিদ্যমান সেকেলে নিয়মের কারণে অব্যবহৃত অর্থ সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতাকে তিনি ‘অযৌক্তিক চক্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র ৩৬টি দেশ ২০২৬ সালের নিয়মিত চাঁদা পূর্ণাঙ্গভাবে পরিশোধ করেছে বলে গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.