বিদ্যুৎ চাহিদা কমলেও তৃতীয় প্রান্তিকে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে আদানি পাওয়ার

স্বাভাবিকের চেয়ে দীর্ঘ বর্ষাকাল, তুলনামূলক শীতল আবহাওয়া এবং নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন বৃদ্ধির প্রভাবে বিদ্যুদের চাহিদা কমেছে। এর মধ্য দিয়েও চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে আর্থিক ও পরিচালন ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে ভারতের শীর্ষ বেসরকারি তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদক আদানি পাওয়ার লিমিটেড (এপিএল)।
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এ শেষ হওয়া তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির মোট বিদ্যুৎ বিক্রি দাঁড়িয়েছে ২৩.৬ বিলিয়ন ইউনিট, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৩.৩ বিলিয়ন ইউনিট। এই সময়ে বিদ্যুতের উৎপাদন ১৭ হাজার ৫৫০ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ১৮ হাজার ১৫০ মেগাওয়াটে পৌছেসে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবহার হার (প্ল্যান্ট লোড ফ্যাক্টর) কমে ৬২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে কিছু বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির আওতায় বিদ্যুৎ গ্রহণ কমে যাওয়া এবং খোলা বাজারে বিদ্যুৎ বিক্রির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবহার হার (প্ল্যান্ট লোড ফ্যাক্টর) ৬৩.৯ শতাংশ থেকে কমে ৬২.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
তৃতীয় প্রান্তিকে মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ১২ হাজার ৭১৭ কোটি রুপি, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৩ হাজার ৪৩৪ কোটি রুপি। আন্তর্জাতিক কয়লার দাম কম থাকায় দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট) আওতায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দর এবং খোলা বিদ্যুৎ বাজারে বিক্রির হার কম থাকায় রাজস্বে সামান্য চাপ তৈরি হয়েছে। তবুও দুর্বল বাজার পরিস্থিতির মধ্যেও কর-পূর্ব মুনাফা (ইবিআইটিডিএ) হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৬ কোটি রুপি। গত অর্থবছরের এই সময়ে এটি ছিলো ৪ হাজার ৭৮৬ কোটি রুপি, যা আয়ের স্থিতিশীলতার প্রতিফলন।
আর্থিক ব্যয় কম হওয়ার ফলে কর-পূর্ব মুনাফা ৫.৩ শতাংশ বেড়ে ২,৮০০ কোটি রুপিতে পৌঁছাছে। তবে কর-পরবর্তী নিট নিট মুনাফা ২,৯৪০ কোটি রুপি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২,৪৮৮ কোটি রুপিতে। কারণ আগের অর্থবছরের একই সময়ে এককালীন পূর্ববর্তী সময়ের আয় কম ছিলো।
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ চাহিদা এই ত্রৈমাসিকে প্রায় স্থবির ছিল। সারা দেশে মোট বিদ্যুৎ চাহিদা দাঁড়ায় ৩৯২ বিলিয়ন ইউনিট, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৯৩ বিলিয়ন ইউনিট। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে খোলা বিদ্যুৎ বাজারে দরের উপর চাপ সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে খোলা বাজার ও স্বল্পমেয়াদি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বিক্রি ৪.৬ বিলিয়ন ইউনিট থেকে কমে ৪.৩ বিলিয়ন ইউনিটে নেমে আসে।
নানান প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি আয় বাড়াতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে আদানি পাওয়ারের। তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্টানটি আসাম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে আসামে ৩২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন একটি আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্রয় চুক্তির আওতায় লেটার অব অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। এর ফলে আদানি পাওয়ারের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালন ক্ষমতা এখন দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির অধীনে আবদ্ধ হয়েছে, যা স্বল্পমেয়াদি বাজারের ওঠানামার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।”
ব্যবসায়িক অগ্রগতির ক্ষেত্রে, আদানি পাওয়ার অসম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ৩,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি নতুন স্থাপিত আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির আওতায় লেটার অব অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। এর ফলে কোম্পানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালন ক্ষমতা এখন দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে সুরক্ষিত হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ আয়ের স্থায়িত্ব বাড়াবে।
এছাড়া, জানুয়ারি ২০২৬ মাসে আদানি পাওয়ার নন-কনভার্টিবল ডিবেঞ্চার ইস্যুর মাধ্যমে ৭,৫০০ কোটি রুপি সংগ্রহ করেছে। এই অর্থ মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং কার্যকরী মূলধনের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হবে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ঋণ ছিল ৪৫,৩৩১ কোটি টাকা, এবং চলমান মূলধনী ব্যয়ের জন্য নেওয়া অস্থায়ী অর্থায়নের ফলে নিট ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮,৬৭৯ কোটি টাকা।
বর্তমানে কোম্পানিটি ২৩.৭ গিগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্প্রসারণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। মেহান, রায়পুর ও রায়গড়ে বিদ্যমান প্রকল্পভিত্তিক সম্প্রসারণ কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে এগিয়ে চলেছে এবং ছত্তিশগড়ের কোরবায় ১,৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পগুলি ঋণ২৭ থেকে ঋণ২৯-এর মধ্যে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হওয়ার কথা।
আদানি পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী আধিকারিক এস বি খ্যালিয়া জানিয়েছেন, ভারতের দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ চাহিদা নিয়ে কোম্পানি আশাবাদী এবং নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে আদানি পাওয়ার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের এই আর্থিক প্রতিবেদন সম্পর্কে এক প্রতিক্রিয়ায় আদানি পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস বি এস বি খ্যালিয়া (ঝ ই কযুধষরধ) বলেন, কোম্পানিটি এখনও শক্তিশালী তারল্য অবস্থান এবং প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়ের সক্ষমতা বজায় রেখেছে। তিনি জানান, ২৩.৭ গিগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্প্রসারণ কর্মসূচির বাস্তবায়নে আদানি পাওয়ার অনেক দূর এগিয়েছে এবং এই উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় অর্ধেক ইতিমধ্যেই দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মাধ্যমে সুরক্ষিত হয়েছে।
তিনি জানান, মোহান, রায়পুর ও রায়গড়ে বিদ্যমান প্রকল্পভিত্তিক সম্প্রসারণ কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে এগিয়ে চলেছে। পাশাপাশি ছত্তিশগড়ের কোরবায় ১,৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পগুলি ২০২৭ এবং ২০২৯ অর্থবছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হওয়ার কথা।”
চলতি অর্থ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে আদানি পাওয়ার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, টেকসই জীবিকা এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন এবং কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা সংক্রান্ত উদ্যোগগুলি আরও এগিয়ে নিয়ে গেছে আদানি পাওয়ার। যা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধির প্রতি কোম্পানির অঙ্গীকারকে জোরদার করেছে।”

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.