চট্টগ্রামের রাউজানে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া পাঁচ বছর বয়সী শিশু মিসবাহকে তিন ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রাম থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। শিশু মিসবাহ ওই এলাকার দিনমজুর সাইফুল ইসলামের ছেলে।
চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর আবদুল মান্নান বলেন, শিশুটিকে রাত সোয়া ৮টার দিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাউজান ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা শামসুল আলম বলেন, বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে আমরা স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পাই যে একটি শিশু নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে। আমাদের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। শিশুটি গর্তের আনুমানিক ৩০ ফুট নিচে আটকা পড়েছিল। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত সোয়া ৮টায় আমরা তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই।
এর আগে আজ বিকেলে গর্তে পড়ে যাওয়ার খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয়রা টর্চলাইট ব্যবহার করে গর্তের ভেতরে শিশুটির অবস্থান দেখার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ গর্তের ভেতরে একটি গাছ ঢুকিয়ে শিশুটিকে তা ধরে রাখার নির্দেশ দিচ্ছেন। তবে পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিশেষ যানের সাহায্যে মাটি কেটে শিশুটিকে উদ্ধার করে।
এর আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিল দুই বছরের শিশু সাজিদ। ওই সময় ঘটনাটি সারা দেশে আলোচনা হয়েছিল। পুলিশ, সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও স্থানীয়রা টানা ৩২ ঘণ্টা শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে ১১ ডিসেম্বর শিশুটিকে উদ্ধার করেছিল। ওইদিন হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.