স্টক এক্সচেঞ্জের লক্ষ্য স্বচ্ছ, দক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করা: প্রধান রেগুলেটরি কর্মকর্তা

স্টক এক্সচেঞ্জের মূল লক্ষ্য হলো মূলধন উত্তোলনের জন্য একটি স্বচ্ছ, দক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করা বলে জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান রেগুলেটরি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ডিএসই ট্রেনিং একাডেমিতে অনুষ্ঠিত “প্রবৃদ্ধির পরবর্তী পদক্ষেপ: তালিকাভুক্তির পথে অগ্রযাত্রা-প্রবৃদ্ধি, সুশাসন ও বিশ্বাসযোগ্যতা জোরদারের কৌশলগত দিকনির্দেশনা” শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, নতুন আইপিও রুলস ২০২৫ মানসম্মত কোম্পানির তালিকাভুক্তি, শক্তিশালী কর্পোরেট গভর্ন্যান্স ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই পুঁজিবাজার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, তালিকাভুক্তি ডিএসই’র ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি একটি সময়োপযোগী ধাপ, যার মাধ্যমে কর্পোরেট সুশাসনের সঙ্গে পরিচালন কাঠামো আরও সুসংগত হয়। এ পদক্ষেপ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বাজার শৃঙ্খলা শক্তিশালী করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের সুযোগ সৃষ্টি করে। নতুন কাঠামোতে লিস্টিংকে কৌশলগত প্রবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং গভর্ন্যান্সকে তালিকাভুক্তির পূর্বশর্ত করা হয়েছে। এছাড়া ডিউ ডিলিজেন্স ও তালিকাভুক্তির পরবর্তী দায়বদ্ধতা শক্তিশালী করায় বাজারে শৃঙ্খলা, সঠিক মূল্য নির্ধারণ ও বিনিয়োগকারী সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রণীত পাবলিক অফার অফ ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫–এর ওপর আলোচনা করেন অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো: লুত্ফুল কবির। তিনি নতুন বিধিমালার পটভূমি, প্রধান পরিবর্তন, আইপিও প্রক্রিয়া, বুক বিল্ডিং ও আন্ডাররাইটিং প্রক্রিয়ার সংস্কারসমূহ তুলে ধরেন। তিনি জানান, নতুন বিধিমালা আইপিও প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও বাজারবান্ধব করে সম্ভাবনাময় কোম্পানির পুঁজিবাজারে প্রবেশ সহজ করবে।

ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও তানজিব আলমগীরের নেতৃত্বে একটি টিম “Process of Onboarding Prospective Issuers under the New Rules” বিষয়ে প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন। এতে সফল আইপিও প্রক্রিয়ার তিনটি মূল ধাপ—কৌশলগত পরিকল্পনা, আইপিও প্রস্তুতি এবং আইপিও লেনদেন সম্পাদন তুলে ধরা হয়। আইপিও-কে একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি উল্লেখ করে তারা স্বচ্ছতা ও সুশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রোডাক্ট এন্ড মার্কেট ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান সাইদ মাহমুদ জুবায়ের দেশের পুঁজিবাজার কাঠামো, তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া এবং QIO (Qualified Investor Offer) কাঠামোর মাধ্যমে ক্ষুদ্র মূলধনী ও স্টার্টআপ কোম্পানির বাজার প্রবেশের সুযোগ ব্যাখ্যা করেন। এছাড়া ATB-তে কম খরচে শেয়ার হস্তান্তর, আধুনিক ট্রেডিং সিস্টেম ও বিদ্যমান কর সুবিধার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

সমাপনী বক্তব্যে প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. মো. আসিফুর রহমান বলেন, বাজারের বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় রেখেই এই নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। টাইমলাইনের বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা একটি বড় অগ্রগতি। সে অনুযায়ী সিস্টেম প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা যায়। এর মাধ্যমে একটি আরও পরিপক্ব, সুসংগঠিত ও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রিত স্টক মার্কেট গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.