ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের খরচ টাকার হিসাবে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। তবে ডলারের হিসাবে প্রকল্পের খরচ অপরিবর্তিত আছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।
এছাড়া প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। আগে ডিসেম্বর ২০২৫-এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল, এখন তা করা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প সংশোধন করা হয়। শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পটি রাশিয়ার ঋণে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ডলারের দামে প্রকল্পের মূল্য একদম ঠিক আছে, টাকার হিসাবে বেড়েছে। ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ডলারের দাম বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার ঋণ পরিশোধে ঝামেলা হয়েছে, এটি বাংলাদেশের সমস্যা নয়। এছাড়া কোভিডসহ নানা কারণে রাশিয়ার আগ্রহে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, রাশিয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ১১ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে। ২০১৫ সালে যখন ঋণচুক্তি হয়, তখন প্রতি ডলারের দাম ছিল ৮০ টাকা। বর্তমানে ডলারের দাম বেড়ে ১২২ টাকা হয়েছে। ফলে টাকার অঙ্কে প্রকল্পের মূল্য বেড়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, রূপপুরে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের খরচের মধ্যে রাশিয়ার ঋণের টাকার অঙ্ক বেড়েছে ২৫ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা, যা এখন ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে দেশীয় উৎসের খরচ কমানো হয়েছে ১৬৬ কোটি টাকা, যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা আরও বলেন, আগামী জুন বা ডিসেম্বরের মধ্যে যেসব প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা, তা নির্ধারিত সময়ে শেষ না হলে অর্থছাড় বন্ধ করা হবে।
তিনি জানান, একনেক সভায় নীলফামারীতে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে, যা পার্শ্ববর্তী দেশের লোকজনও ব্যবহার করতে পারবে।
আজকের একনেক সভায় মোট ২৫টি প্রকল্প পাস হয়েছে, যার মোট খরচ প্রায় ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব উৎস থেকে দেওয়া হবে ১০ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা, বিদেশি সহায়তা ৩২ হাজার ১৮ কোটি টাকা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা দেবে ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.