ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ‘হ্যাঁ’ ভোট অপরিহার্য: আলী রীয়াজ

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) ও গণভোট সংক্রান্ত কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কোনো বিকল্প নেই।

সোমবার নগরীর টাউন হল মিলনায়তনে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত গণভোটের প্রচারণা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

আলী রীয়াজ বলেন, এক ব্যক্তির ইচ্ছায় যেন দেশ পরিচালিত না হয় এই দায়িত্ব শহীদরা আমাদের দিয়ে গেছেন। অতীতের ব্যক্তিতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হলে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে। আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণা চালানো সরকারি কর্মচারীদের নৈতিক দায়িত্ব এবং এতে কোনো আইনগত বাধা নেই। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি ও আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনায় একবাক্যে মত পাওয়া গেছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ওপর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা নেই। যারা ভিন্ন কথা বলছে, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে অথবা ভিন্ন উদ্দেশ্যে বিষয়টি উত্থাপন করছে।

তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে যে ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম ছিল, তার বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছেন, জীবন দিয়েছেন, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তারাই আমাদের দুটি দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। একটি হলো, ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরতন্ত্র যেন আর ফিরে আসতে না পারে, আরেকটি হলো ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথনকশা নির্মাণ। গণভোট সেই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ভোট নিয়ে অনাস্থার কারণে অনেকের কাছে গণভোট নতুন অভিজ্ঞতা। তাই জনগণকে বোঝাতে হবে কীভাবে ব্যালটে ভোট দিতে হবে এবং ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের অর্থ কী। ব্যালটে ‘টিক চিহ্ন’কে প্রচারণার মূল প্রতীক ধরে মানুষকে ভোটকেন্দ্রে আনতে হবে।

অতীতে এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সংবিধান সংশোধনের উদাহরণ টেনে আলী রীয়াজ বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী একটি কমিটির মাধ্যমে হলেও শেষ পর্যন্ত একক সিদ্ধান্তে পরিবর্তন করা হয়েছে। সংবিধান সংশোধন যেন আর কখনো ব্যক্তিগত ইচ্ছার খেলায় পরিণত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই গণভোট জরুরি।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা গেলে ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব। গণভোট নিয়ে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে- এতে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। আমাদের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। তিনি বলেন, সংবিধানকে অতীতে জনগণের ওপর জুলুম চালানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, তাই প্রয়োজনীয় সংস্কার ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমেই সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংবিধান থেকে ধর্মীয় বিষয় বাদ যাবে এ ধরনের প্রচারণা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। এ ধরনের অপপ্রচারের বিপরীতে জনগণকে সঠিক তথ্য জানাতে সরকারি কর্মচারীদের ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, গণভোটের মূল প্রশ্ন হলো- আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে কি-না। ফ্যাসিবাদী শাসনের নির্মমতায় যে তরুণ, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের একমাত্র পথ ‘হ্যাঁ’ ভোট। গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে আমরা নিজের ভাগ্য নিজেরা গড়ব, নাকি আবার অন্যের হাতে ছেড়ে দেব।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.