আন্তর্জাতিক ক্রিয়েটিভ আর্টস অ্যাওয়ার্ড পেলেন আশানুর রহমান

ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিয়েটিভ আর্টস অ্যাওয়ার্ড-২০২৫ লাভ করেছেন কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক মো. আশানুর রহমান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ক্রিয়েটিভ আর্টস, ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তাঁর সাহিত্যকর্মকে “মানস গঠনে ও জীবনপ্রেরণায় ভাষা ও সাহিত্যের প্রভাব” শীর্ষক অবদানের জন্য সম্মানিত করা হয়। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার হলে অনুষ্ঠিত হয় এ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান।

২০২৪ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘লেনিন’-এর জন্যই মূলত এ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। ছয় বছরের নিবিড় গবেষণা ও সৃজনশীল সাধনার ফসল এই উপন্যাসটি ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের জীবন ও চিন্তাকে নতুন সাহিত্যিক ভাষ্যে উপস্থাপন করেছে। ইতিহাস, আদর্শ ও মানবিক দ্বন্দ্বকে গভীর মননশীলতায় অন্বেষণ করা এ উপন্যাসটি প্রকাশের পরপরই পাঠক ও সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও উত্তর আমেরিকার বাংলা পাঠকমহলে ‘লেনিন’ ব্যাপকভাবে আলোচিত ও সমাদৃত হয়েছে।

২০২৫ সালে তিনি প্রকাশ করেন তাঁর প্রথম ছোটগল্পগ্রন্থ ‘ভোর ও বারুদের গল্প’। সময়, সংঘাত, স্মৃতি ও আশার সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা এই গল্পগুলো সহিংসতা ও সংগ্রামের মধ্যেও মানুষের অন্তর্লীন সংবেদন, সহনশীলতা ও প্রত্যাশাকে মৃদু অথচ গভীর ভাষায় তুলে ধরে। গ্রন্থ রচনার পাশাপাশি সাহিত্যজগতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। তিনি অর্ধবার্ষিক সাহিত্যপত্রিকা মননরেখা এবং শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিভিত্তিক ওয়েবজিন লেখালেখির উঠান-এর সহ-সম্পাদক। তাঁর সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ ও ভাবনালেখা নিয়মিত প্রকাশিত হয় দেশের শীর্ষ দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক বণিক বার্তা ও দৈনিক সমকাল-এ, যেখানে সমকালীন সাহিত্য আলোচনায় তাঁর চিন্তাশীল কণ্ঠ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

পেশাগত জীবনে মো. আশানুর রহমান একজন জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যাংকিং খাতে কাজ করে তিনি বর্তমানে সিটি ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, চিফ ইকোনমিস্ট ও কান্ট্রি বিজনেস ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ব্যস্ত পেশাজীবনের মাঝেও তিনি লেখালেখিকে সময়ের অবসর নয়, বরং দায়িত্ব হিসেবেই গ্রহণ করেন-এই বিশ্বাসে যে সাহিত্য কোনো বিলাস নয়, এটি সমাজের প্রতি এক ধরনের দায়বদ্ধতা।

ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর সবচেয়ে বড় প্রেরণা ও আশ্রয় তাঁর পরিবার-স্ত্রী ও দুই কন্যা-যাঁদের উপস্থিতি তাঁর নীরবতা ও লেখার উভয় ক্ষেত্রেই অর্থ এনে দেয়। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিয়েটিভ আর্টস অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ শুধু একটি উপন্যাসের স্বীকৃতি নয়, এটি এক অনন্য সাহিত্যযাত্রার উদযাপন-যেখানে শৃঙ্খলা জন্ম দেয় কল্পনার, আর আর্থিক জগতের মধ্যেও লেখা হয় এক গভীর মানবিক ও বিপ্লবী গল্প।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.