গ্রিনল্যান্ডের ‘‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও পূর্ণ ক্রয়’’ নিয়ে সমঝোতা না হলে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে চাপ সৃষ্টি করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের এই হুমকির পর তিনি বলেছেন, বিশ্বশান্তি বর্তমানে ঝুঁকিতে রয়েছে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে গণমাধ্যম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ডেনমার্কসহ আটটি দেশকে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়তে হবে। গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণাঙ্গ মালিকানা হস্তান্তর অথবা পুরোপুরি বিক্রিতে যদি ইউরোপীয় মিত্ররা একমত না হয়, তাহলে আগামী জুন থেকে ওই শুল্ক বেড়ে ২৫ শতাংশে পৌঁছাবে।
শুল্ক আরোপের এই হুমকির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, বিশ্বশান্তি ঝুঁকিতে রয়েছে, কারণ চীন ও রাশিয়া ‘‘গ্রিনল্যান্ড চায়’’। তিনি বলেন, কেবল যুক্তরাষ্ট্রই ‘‘এই খেলা খেলতে পারে’’। নতুন ‘‘গোল্ডেন ডোম’’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ‘‘সর্বোচ্চ সক্ষমতা ও কার্যকারিতায়’’ চালানোর জন্য দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ তার প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণমাধ্যমের অর্থনীতিবিষয়ক সম্পাদক বলেছেন, ট্রাম্পের এই হুমকি নজিরবিহীন ও বাস্তবতা-বিবর্জিত। এতে আটটি দেশের কর্মকর্তারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের জনগণেরই।
এদিকে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে করা বিতর্কিত দাবির পর গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘‘গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীর জন্য’’ এবং ‘‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়’’ লেখা ব্যানার দেখা যায়।
অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রস্তাবের বিরোধিতাকারী ইউরোপের আট মিত্র দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকির পর জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকি নিয়ে আলোচনা করতে রোববার পরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.