অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করবেন ২১০ কোটি শ্রমিক: আইএলও

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) জানিয়েছে, বৈশ্বিক বেকারত্ব স্থিতিশীল থাকলেও শোভন কাজের গতি থমকে গেছে। অন্যদিকে, অনানুষ্ঠানিক খাতে শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কর্মসংস্থানের গুণগত মান কমাচ্ছে।

আইএলওর নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক বেকারত্বের হার প্রায় ৪.৯ শতাংশ, সংখ্যাগতভাবে এটি প্রায় ১৮৬ মিলিয়ন বা ৮ কোটি ৬০ লাখ মানুষ। একই সঙ্গে, বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি শ্রমিক এখনো মানসম্মত কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ৩০ কোটি শ্রমিক চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছেন; দৈনিক আয় ৩ মার্কিন ডলার বা ৩৬৩ টাকার কম। অনানুষ্ঠানিক খাতে ২০২৬ সালে প্রায় ২১০ কোটি শ্রমিক নিয়োজিত হতে পারেন, যেখানে সামাজিক সুরক্ষা, কর্ম অধিকার ও চাকরির নিরাপত্তা কম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণরা এখনো কঠিন অবস্থার মুখে। ২০২৫ সালে তরুণদের বেকারত্বের হার বেড়ে হয়েছে ১২.৪ শতাংশ। প্রায় ২৬ কোটি তরুণ শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণ (এনইইটি) কোনোটিতেই যুক্ত নয়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের কারণে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে শিক্ষিত তরুণদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় সামগ্রিক বেকারত্বের হার ৪.৬ শতাংশ, তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ২০২৪ থেকে ২০২৭ পর্যন্ত বেকারের সংখ্যা বেড়ে ৩ কোটি ৭৬ লাখ থেকে ৩ কোটি ৯৯ লাখে পৌঁছাবে। অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান, নিম্নমানের কাজ ও দারিদ্র্য এখানে বৃহত্তর চ্যালেঞ্জ।

আইএলও মনে করায়, বৈশ্বিক বাণিজ্য অস্থির হওয়ায় শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তবে রপ্তানিনির্ভর খাতগুলোতে তুলনামূলকভাবে ভালো মজুরি, কাজের নিরাপত্তা ও নারীর সুযোগ রয়েছে।

আইএলওর মহাপরিচালক শোভন কাজ ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তায় জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরকার, নিয়োগকর্তা ও শ্রমিকেরা যদি দায়িত্বশীলভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নারী ও তরুণদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সমন্বিতভাবে কাজ না করেন, তাহলে শোভন কাজের ঘাটতি থাকবে এবং সামাজিক সংহতি ঝুঁকিতে পড়বে।

বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে: দক্ষতা, শিক্ষা ও অবকাঠামোতে বিনিয়োগসহ উৎপাদনশীলতাবর্ধক নীতি বাস্তবায়ন; অংশগ্রহণে বিদ্যমান বাধা দূর করা এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করে লিঙ্গ ও যুব বৈষম্য মোকাবিলা; বাণিজ্য ও শোভন কাজের পরিবেশ জোরদার করা; ঋণ, এআই ও বাণিজ্য অনিশ্চয়তা থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি সমন্বিত নীতির মাধ্যমে প্রশমিত করা।

গণমাধ্যম জানাচ্ছে, এই প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমবাজারের প্রকৃত ঝুঁকি ও ভঙ্গুরতা বোঝার জন্য শুধু বেকারত্বের হার নয়, অনানুষ্ঠানিকতা, নিম্নমানের কাজ ও তরুণদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ জরুরি।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.