ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ২ হাজার নিহত

অর্থনৈতিক সংকটের ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সরকারি এক কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ-প্রতিবাদে কমপক্ষে ২ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তাদের মধ্যে দেশটির বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রয়েছেন। এই প্রাণহানির ঘটনায় সন্ত্রাসীদের দায়ী করেছেন ওই কর্মকর্তা।

দেশটিতে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ-সহিংসতায় এত বেশিসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার করল ইরানি কর্তৃপক্ষ।

রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনায় ‌‌‘‘সন্ত্রাসীরা’’ দায়ী। তবে বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক কতজন রয়েছেন, সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য দেননি তিনি।

বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জেরে ইরানে চলমান এই বিক্ষোভকে গত তিন বছরে ইরানি কর্তৃপক্ষের জন্য ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিক্ষোভের পাশাপাশি গত বছরের ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর দেশটির ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর ওপর আন্তর্জাতিক চাপও ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব বিক্ষোভ মোকাবিলায় দ্বিমুখী কৌশল বেছে নিয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ-প্রতিবাদকে ‘ন্যায্য’ বলে স্বীকার করলেও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করছে দেশটির সরকার।

বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উসকানি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। অজ্ঞাত ‘‘সন্ত্রাসীরা’’ সাধারণ জনগণের বিক্ষোভকে ছিনতাই করেছে বলে দাবি করেছে তেহরানের শাসকগোষ্ঠী।

এর আগে, আন্তর্জাতিক এক মানবাধিকার সংস্থা ইরানের বিক্ষোভে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানিয়েছিল। একই সঙ্গে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারের তথ্যও জানায় সংস্থাটি।

বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে দেশটিতে ইন্টারনেটের ওপর ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করায় দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি সামরিক গ্রেডের জ্যামার ব্যবহার করে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্টারলিঙ্কের ইন্টারনেট সংযোগও অচল করে দিয়েছে ইরান।

গত এক সপ্তাহ ধরে রাতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষের একাধিক ভিডিও সামনে এসেছে। এসব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে দেখেছে রয়টার্স। ভিডিওতে গুলিবর্ষণ, গাড়ি ও ভবনে অগ্নিসংযোগ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা গেছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.