ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিহত অন্তত ৫৩৮

ইরানে চলমান তুমুল সরকারবিরোধী আন্দোলনে বেড়েই চলেছে প্রাণহানির সংখ্যা। বিক্ষোভ দমনে অন্তত ৫৩৮ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মানবাধিকারকর্মীরা। আরও অনেকের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, গত দুই সপ্তাহে এসব বিক্ষোভে ১০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। সংস্থাটি অতীতেও ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়েছে।

ইরানে ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক ফোন যোগাযোগ বন্ধ থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতি জানা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তথ্য আদান-প্রদানে এই বাধা নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়ন আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

রোববারও রাজধানী তেহরান এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে বিক্ষোভ হয়েছে। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, ছোট ছোট দলে মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে বিক্ষোভগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে এবং স্বল্প সময়ের জন্য হচ্ছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনটি। কিছু এলাকায় নজরদারি ড্রোন ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে।

এদিকে ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের ওপর হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েল ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হবে। সংসদে এ বক্তব্যের সময় ‘আমেরিকার মৃত্যু’ স্লোগান দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউস এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি।

ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ভয়াবহ মূল্য হ্রাসের কারণে ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হয়। এক ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দাম দাঁড়ায় প্রায় ১৪ লাখ। শুরুতে অর্থনৈতিক দাবিতে আন্দোলন হলেও পরে তা সরকার ও ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.