জানুয়ারির কুয়াশাঘেরা শীতের রাতে ঢাকার আকাশজুড়ে ছিল তারার মেলা। আর সেই আকাশের নিচে, র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের পুলসাইডে—আলো, সংগীত আর মানুষের প্রাণচাঞ্চল্যে জন্ম নিল এক নতুন সাফল্যের জয়গান। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) অনুষ্ঠিত ‘ইউসিবি নাইট – দ্য বিগিনিং অব এ নিউ এরা’ হয়ে উঠল ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)-এর নতুন যুগে পথ প্রবেশের এক স্মরণীয় ঘোষণা।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) কোম্পানিটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এই রাতেই আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হলো বহুল প্রত্যাশিত দুটি অভিজাত কার্ড, যা প্রিমিয়াম ব্যাংকিং সেবায় এক নতুন মানদণ্ডের প্রতীক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নানা বয়স ও পেশার অতিথিরা। এক উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী সস্ত্রীক এসেছেন বহুদিনের সম্পর্কের টানে। পরিচিতজনদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, পুরোনো দিনের গল্পে ফিরে যাওয়া—সব মিলিয়ে তাঁর কণ্ঠে ছিল আলাদা উচ্ছ্বাস।
অন্যদিকে, চরম ব্যস্ততা পেছনে ফেলে উত্তরা থেকে আসা এক চিকিৎসক দম্পতির কাছে সন্ধ্যাটি ছিল সুর আর আস্থার মেলবন্ধন। গান শুনতে শুনতে তাঁদের চোখেমুখেও ফুটে উঠছিল স্বস্তি—এ যেন শুধু বিনোদন নয়, বিশ্বাসেরও এক উৎসব।
বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সরকারি-বেসরকারি পেশাজীবীদের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা। সবার উপস্থিতির কারণ একটাই—ইউসিবির ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প উদযাপন এবং আধুনিক, ভবিষ্যৎমুখী ব্যাংকিংয়ের নতুন যাত্রার সাক্ষী হওয়া।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মুহূর্ত আসে ইউসিবি ভিসা ইনফিনিট কার্ড ও ইউসিবি মাস্টার কার্ড ওয়ার্ল্ড এলিট-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে। আধুনিক ও উচ্চমানের নকশা আর উন্নত সুবিধায় সমৃদ্ধ এই কার্ড যেন ইউসিবির আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা—গ্রাহকসেবাকে নিয়ে তারা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে। করতালির শব্দেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, উদ্যোগটি গ্রাহকদের প্রত্যাশার সঙ্গেই সুর মিলিয়েছে।
কবিতা, গীতিআলেখ্য, হাবিবের গান ও আলোর ঝলকানির মাঝেই পর্দায় ভেসে ওঠে ইউসিবির বাস্তব সাফল্যের চিত্র। গত এক বছরে ব্যাংকটি আমানত প্রবৃদ্ধিতে গড়েছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড। ২০২৪ সালে যেখানে আমানত বেড়েছিল ৪,০৮২ কোটি টাকা, ২০২৫ সালে তা লাফিয়ে বেড়ে পৌঁছেছে প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকায়—ইউসিবির ইতিহাসে যা আগে কখনো দেখা যায়নি।
এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি গ্রাহকদের আস্থা। ২০২৫ সালে ৬.৭৮ লাখ নতুন গ্রাহক ইউসিবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। সংখ্যাগুলো যেন নিঃশব্দে বলে দেয়—ইউসিবির ওপর মানুষের বিশ্বাস আবার দৃঢ় হয়েছে। একই সঙ্গে শৃঙ্খলা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার ফল হিসেবে এডভান্স টু ডিপোজিট রেশিও ৯১.৩ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ৮৩.০ শতাংশে, যা ব্যাংকটির স্থিতিশীলতারই প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহীর বলেন, ‘চার দশক ধরে যা তৈরি করেছি, ইনশাল্লাহ, আপনাদের অব্যাহত সমর্থনে আগামী চার বছরে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারব।’
ইউসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার স্পষ্ট: প্রথমে স্থিতিশীলতা, এরপর আস্থা, আর তার পর টেকসই বৃদ্ধি।’
সন্ধ্যার শেষভাগে কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লার আবেগঘন গান, এরপর প্রীতম ও দোলা–র প্রাণবন্ত পরিবেশনা রাতটিকে আরও রঙিন ও স্মরণীয় করে তোলে।
‘ইউসিবি নাইট’ তাই শুধু একটি উৎসব নয়। এটি ছিল আস্থার পুনর্জাগরণ, ঘুরে দাঁড়ানোর দৃপ্ত ঘোষণা—আর প্রিমিয়াম কার্ডের হাত ধরে ভবিষ্যৎমুখী ব্যাংকিংয়ের পথে ইউসিবির আত্মবিশ্বাসী যাত্রা।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.