জেরুজালেমে ইহুদিদের জন্য ৩ হাজার ৪০১টি নতুন বসতি নির্মাণ

প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ৩ হাজার ৪০১টি নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে ইসরায়েল। এই নির্মাণকাজের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডারও আহ্বান করেছে ইসরায়েলের সরকার।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) আনাদুলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ফিলিস্তিনের সরকারি সংস্থা ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, পূর্ব জেরুজালেমে ই-ওয়ান এলাকায় নতুন বাড়িগুলো নির্মাণ করা হবে। এই এলাকাটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড থেকে পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি শহর মারে আদুমিমে যাতায়াতের ক্ষেত্রে করিডোর হিসেবে কাজ করে ই-ওয়ান এলাকা।

ফলে ই-ওয়ান এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের জন্য বাড়ি নির্মাণ করা হলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব আরও পাকাপোক্ত হবে। ইসরায়েলের ভূমি কর্তৃপক্ষ এই টেন্ডার আহ্বান করেছে।

ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের প্রধান মুআয়াদ শাবান গণমাধ্যমকে বলেন, আন্তর্জাতিক চাপের কারণে পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব কার্যক্রম প্রায় ৩ দশক বন্ধ ছিল; কিন্তু গাজা যুদ্ধ সব ওলট-পালট করে দিয়েছে। ই-ওয়ান এলাকায় ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের বাড়ি নির্মাণ সংক্রান্ত এই প্রকল্পটি ইসরায়েলের মন্ত্রিসভায় পাস হয়েছিল ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় জাতিসংঘ ঘোষণা দিয়েছিল যে মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন নামে দুটি পৃথক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে। আরও বলা হয়েছিল, গাজা, পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের সমন্বয়ে গঠিত হবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এবং এই রাষ্ট্রের রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম।

ঐতিহাসিক শহর জেরুজালেম দুই অংশে বিভক্ত। এর পূর্বভাগটি পড়ে প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অংশে এবং পশ্চিম ভাগ পায় ইসরায়েল। এই অংশটি শুধু জেরুজালেম নামে পরিচিতি পায়। ১৯৬৭ সালের আরব ইসরায়েল যুদ্ধের সময় পূর্ব জেরুজালেম দখল করে ইসরায়েল। তারপর থেকে এখনও এই শহর ইসরায়েলের দখলেই আছে।

মুআয়াদ শাবান বলেন, পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকাতে তারা শহরটিকে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে পশ্চিম জেরুজালেমের সঙ্গে যুক্ত করতে চায়। তাদের সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই আবাসিক প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে একটু একটু করে প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভূখণ্ড দখল করছে ইসরায়েল এবং গাজা উপত্যকায় হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ এই দখলদারি কার্যক্রমে উল্লম্ফন ঘটিয়েছে। ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ১০ হাজার ৯৮টি বাড়ি নির্মাণের টেন্ডার পাস করেছে ইসরায়েল।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.