যুক্তরাষ্ট্রের তাড়া করা তেলবাহী জাহাজকে পাহারা দিতে রাশিয়ার নৌ বাহিনী মোতায়েন

রাশিয়ার পতাকা ধারণ করে ‘মেরিনেরা’ তেলবাহী জাহাজকে মার্কিন তাড়া, উত্তেজনা বাড়ল আটলান্টিকে

যুক্তরাষ্ট্রের তাড়া করা একটি তেলবাহী জাহাজকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যেতে রাশিয়া তাদের নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েন করেছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। আটলান্টিক মহাসাগর দিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজটিকে মার্কিন বাহিনী ধাওয়া শুরু করে।

জাহাজটি বর্তমানে খালি থাকলেও আগের তথ্য বলছে, এই জাহাজ ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল পরিবহন করে থাকে। গতকাল মঙ্গলবার এটি স্কটল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের মাঝামাঝি কোনো এক স্থানে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় আসা-যাওয়া করা নিষিদ্ধ তেলবাহী জাহাজগুলোর ওপর ‘অবরোধ’ আরোপের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ভেনেজুয়েলা সরকার ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘চুরি’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

জাহাজটি নাটকীয়ভাবে তার গতিপথ পরিবর্তন করে এবং নিজের নাম বদলে রাখে ‘মেরিনেরা’। জানা গেছে, জাহাজটি গায়ানার পতাকা বদলে রাশিয়ার পতাকা লাগিয়েছে। ইউরোপের দিকে জাহাজটির অগ্রসর হওয়ার খবরের মধ্যেই সেখানে প্রায় ১০টি মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমান এবং হেলিকপ্টার যায়।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, জাহাজটিতে ওঠার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে জব্দ করাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সামরিক বাহিনী ‘সাউদার্ন কমান্ড’ জানিয়েছে, নিষিদ্ধঘোষিত জাহাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তারা প্রস্তুত।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো জাহাজ যে দেশের পতাকা বহন করে, সেই দেশের সুরক্ষা পায়। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, নাম বা পতাকা পরিবর্তন খুব একটা কাজে আসবে না। মার্কিন পদক্ষেপ মূলত জাহাজের আইএমও নম্বর, মালিকানা ও আগের নিষেধাজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজটি রুশ পতাকার অধীনে এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সব নিয়ম মেনে চলাচল করছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নজরদারিকে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ ও ‘অতিরিক্ত’ বলে উল্লেখ করেছে।

তেলবাহী জাহাজটি নিয়ে সম্ভাব্য সংঘাত এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন কয়েক দিন আগে মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের সেফ হোম থেকে তুলে নেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.