সীমান্তে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক বাংলাদেশি উদ্ধার

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সীমান্ত থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রনি ইসলাম (২২) নামে এক বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গতরাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার দইখাওয়া সীমান্তের ৯০২ নম্বর পিলার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। গুলিবিদ্ধ রনি উপজেলার গোতামারী গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তিনি।

বিজিবি সূত্র জানায়, গতরাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে ৯০২ নম্বর সীমান্ত পিলারের দিকে এগিয়ে যায় দইখাওয়া বিজিবি ক্যাম্পের একটি টহল দল। সে সময় কয়েকজন ব্যক্তি দৌড়াদৌড়ি করছিলেন এবং গুলিবিদ্ধ একজনকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল। বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যরা গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রনিকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সযোগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

বিজিবি আরও জানায়, এর আগেও গত ২২ ডিসেম্বর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ছররা গুলিতে আহত হন রনি। সে সময় সহযোগীদের সহায়তায় গোপনে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন। রনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে মাদকদ্রব্য ও গরু পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে বিজিবি।

তবে রনির বাবা হারুনুর রশিদের দাবি, তার ছেলে চোরাকারবারী ছিল না। সম্প্রতি একটি চোরাচালান সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে সে এসব অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, গুলিবিদ্ধ চোরাকারবারি রনির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। আপাতত তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বারবার সতর্ক করার পরও সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত হতাশাজনক। সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.