ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি ও আয়োজন নিয়েই বড় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
রবিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে ফেব্রুয়ারি–মার্চে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়। একই সঙ্গে তারা আইসিসির কাছে অনুরোধ করেছে, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যেন সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়া হয়। এই অবস্থার সূচনা হয় দু’দিন আগে, যখন বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স মুস্তাফিজকে ছেড়ে দেয়। বিসিসিআই ওই সিদ্ধান্তের পেছনে বাংলাদেশের ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’র কথা উল্লেখ করে। এরপর থেকেই দুই বোর্ডের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়।
ভারতের গণমাধ্যমে দ্যা টেলিগ্রাফের মতে, সংকট সামাল দিতে সোমবার মুম্বাই ও দুবাইয়ে একাধিক অভ্যন্তরীণ বৈঠক করেছে আইসিসি। একই সঙ্গে বিসিসিআই ও বিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকায় বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে সরাতে হলে বড় ধরনের লজিস্টিক সমস্যায় পড়তে হবে আইসিসিকে।
আইসিসি বাংলাদেশের কাছে সময় চেয়েছে এবং জানিয়েছে, তারা চাইলে সূচিতে সামান্য পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। পাশাপাশি ভারতে খেললে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার নিশ্চয়তাও দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আইসিসির সঙ্গে যুক্ত এক অভিজ্ঞ প্রশাসক বলেন, ‘আইসিসি বাংলাদেশকে বোঝানোর চেষ্টা করবে যাতে তারা ভারতে খেলতে রাজি হয়। এটা শুধু দুই দলের বিষয় নয়, দর্শক, সম্প্রচারকারী ও ভ্রমণরত গণমাধ্যমও জড়িত।’
বাংলাদেশ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে চারটি ম্যাচ খেলবে, যার তিনটি কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে এবং একটি মুম্বাইয়ে। তারা গ্রুপ সিতে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালির সঙ্গে রয়েছে। আইসিসির ইভেন্ট টিম জানে, বাংলাদেশ সুপার এইটে উঠলে সূচি বদলের প্রভাব আরও বড় হবে। এর মধ্যেই টিকিট বিক্রি শুরু হয়ে যাওয়ায় কাজটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সবশেষ বিকল্প হিসেবে আইসিসি চাইতে পারে বিসিসিআই ও বিসিবি নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে। কারণ, এটি মূলত দুই দেশের বোর্ডের মধ্যকার বিরোধ। আইসিসি এতে সরাসরি কোনো ভূমিকা না রেখেও পরিস্থিতির চাপে জড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে বিসিবি মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যা চেয়ে বিসিসিআইয়ের কাছে জানতে চেয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে নির্ধারিত একটি সাদা বলের সিরিজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তেও অসন্তুষ্ট তারা। যদিও বিসিবি বড় কোনো সংঘাতে যেতে চায় না বলেই ধারণা করা হচ্ছে, কারণ বিশ্ব ক্রিকেটে বিসিসিআইয়ের প্রভাব ও আর্থিক ক্ষমতা সম্পর্কে তারা ভালোভাবেই অবগত।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.