এক ব্রোকারেজ হাউসের সনদ বাতিল

পুঁজিবাজারে শেয়ার লেনদেনের অনুমোদন পাওয়া এক প্রতিষ্ঠানের সনদ বাতিল করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির নাম এসকিউ ব্রোকারেজ হাউস। নিয়ম অনুযায়ী, সনদ নেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবসা শুরু করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন সনদ বাতিল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) ডিএসই থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই জানিয়েছে, নিবন্ধন সনদ বাতিল হওয়ায় এখন আর পুঁজিবাজারে লেনদেনের কোনো বৈধতা নেই প্রতিষ্ঠানটির। এ কারণে এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো ধরনের শেয়ার লেনদেন–সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমে যুক্ত না থাকার বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার অংশ হিসেবে এ সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ডিএসইর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এরই মধ্যে কোনো বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে লেনদেন করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণসহ এ বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ করতে।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় শেয়ারবাজারে শেয়ার লেনদেনের জন্য ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট বা ট্রেক সনদ নেয় এসকিউ ব্রোকারেজ হাউস। শেয়ারবাজারে ট্রেক সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ‘ব্রোকারেজ হাউস’ নামে পরিচিত। রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটিকে স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলারের সনদ দেয় তৎকালীন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর মধ্যে স্টক ব্রোকার সনদ হচ্ছে শেয়ারবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ার লেনদেন সুবিধা–সংক্রান্ত ব্যবসার অনুমোদন। আর স্টক ডিলার সনদ দেওয়া হয় প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব বিনিয়োগ ও ব্যবসার জন্য। নিয়ম অনুযায়ী, এই সনদ প্রাপ্তির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবসা শুরু করতে হয়। কিন্তু কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পরও প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা শুরু করতে পারেনি বলে ডিএসই জানিয়েছে। এ অবস্থায় ডিএসইর পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবসা শুরুর তাগিদও দেওয়া হয় কয়েক দফায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা শুরু করতে পারেনি। সর্বশেষ প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সনদ বাতিলের আবেদন করা হলে ডিএসই প্রতিষ্ঠানটির ব্রোকারেজ সনদ বাতিল করে।

জানা যায়, এ প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় ছিলেন কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগদলীয় একজন সংসদ সদস্য। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাই প্রতিষ্ঠানটি এ ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এ কারণে নিজেরা সনদ বাতিলের আবেদন করে। তার ভিত্তিতে সনদ বাতিল হয়—জানিয়েছে গণমাধ্যম।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.