বাংলাদেশ ভারতে না খেললে কত টাকা ক্ষতি বিসিসিআইয়ের?

বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) সিদ্ধান্তে মুস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এরপরই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের কাছে (আইসিসি) বিশ্বকাপের ভেন্যু পাল্টানোর আবেদন জানিয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

এদিকে বাংলাদেশের বার্তা পেয়ে ম্যাচগুলো সরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে বলে বেশ কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। এরই মধ্যে নতুন সূচি তৈরি করতেও তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে ভারত এমনটাই জানা গেছে। সূচি বদলাতে হলে ভারতকে মোটা অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। সেই ক্ষতির পরিমাণ কত হতে পারে সেই সম্ভাব্য তথ্য জানিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কলকাতার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার অনলাইন। পূর্ব ঘোষিত সূচি অনুযায়ী কলকাতা ও মুম্বাইতে হওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ। ৭ ফেব্রুয়ারি ইডেন গার্ডেন্সে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হওয়ার কথা ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইতালি। আর ১৪ ফেব্রুয়ারি একই ভেন্যুতে খেলার কথা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। আর মুম্বাইতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৭ ফেব্রুয়ারি মাঠে নামার কথা নেপালের। ইডেনে দর্শক ধারণক্ষমতা ৬৩ হাজার। আর ওয়াংখেড়ের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ৩৩ হাজার। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ৪টি ম্যাচে প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার টিকিট বিক্রির সম্ভাবনা ছিল।

বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ১০০ টাকা থেকে ৩০০ রুপির মধ্যে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, টিকিটের মালিকানা আইসিসি বিজনেস কর্পোরেশনের। যেহেতু ভারতীয় বোর্ড কেবল বিশ্বকাপের আয়োজক, ফলে টিকিট বিক্রির পুরো অর্থ তারা পাবে না।

সেই কারণে টিকিট বিক্রির ক্ষতি বোর্ডের গায়ে তেমন লাগবে না। বিসিসিআইএর মূল ক্ষতি হতে পারে ম্যাচ-ডে সারপ্লাস (উদ্বৃত্ত আয়), স্থানীয় স্পনসরশিপ এবং হসপিটালিটি ডিমান্ড (ভিআইপি বক্স) থেকে। আনন্দবাজার সম্ভাব্য তিনটি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ্য করে ক্ষতির পরিমাণ কেমন হতে পারে তার একটি পর্যালোচনা করেছে।

যদি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সরিয়ে নেয়া হয় শ্রীলঙ্কায় এবং কলকাতা ও মুম্বাইয়ে অন্য কোনও ম্যাচ না দেয়া হয়, সে ক্ষেত্রে টিকিট বিক্রি বাবদ সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১০ কোটি থেকে ৪০ কোটি টাকা। (যদি ৬০–৯০ শতাংশ দর্শক উপস্থিতি এবং টিকিটের গড় দাম ৫০০–১,৫০০ রুপি ধরা হয়)। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সরিয়ে নেয়া হয় এবং কলকাতা ও মুম্বইয়ে অন্য ম্যাচ দেয়া হয়, এ ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ সেই ম্যাচগুলোতেও দর্শক হবে। তবে ম্যাচগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করতে হবে তখন। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের দুটি ম্যাচকে কম আকর্ষণীয় হিসেবে বিবেচনা করেছে আনন্দবাজার।

এর মধ্যে একটি বাংলাদেশ-নেপাল ও বাংলাদেশ-ইতালির ম্যাচ রয়েছে। যদি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতেই অন্য কোনো ভেন্যুতে হয়, শ্রীলঙ্কা ও ভারতে আয়োজিত ম্যাচের সংখ্যায় কোনো পরিবর্তন না আসে তাহলে ভারতের ক্ষতির পরিমাণ হবে একেবারের নগণ্য। সেক্ষেত্রে লজিস্টিকস ও পরিকল্পনার জন্য শুধু বাড়তি অর্থ খরচ করতে হবে ভারতকে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.