২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফনকৃত শহীদদের মধ্যে আরো আটজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এই আট জনসহ মোট ১১৪ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে দাফন করা হয় এ কবরস্থানে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানায় সিআইডি।
যাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে তারা হলেন- শহীদ ফয়সাল সরকার, শহীদ পারভেজ বেপারী, শহীদ রফিকুল ইসলাম (৫২), শহীদ মাহিম, শহীদ সোহেল রানা, শহীদ আসানুল্লাহ, কাবিল হোসেন, রফিকুল ইসলাম (২৯)।
যাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে তারা হলেন- শহীদ ফয়সাল সরকার, শহীদ পারভেজ বেপারী, শহীদ রফিকুল ইসলাম (৫২), শহীদ মাহিম, শহীদ সোহেল রানা, শহীদ আসানুল্লাহ, কাবিল হোসেন, রফিকুল ইসলাম (২৯)।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং আদালতের নির্দেশে পরিচালিত এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে ৯টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আটজন শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি একটি মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, ফারুক ই আজম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান ও সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকায় নিহত অনেক ব্যক্তির মরদেহ অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে উল্লেখ করে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে শহীদ পরিবারের দাবি ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিহতের পরিচয় শনাক্ত কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পায় সিআইডি। কার্যক্রমটির নেতৃত্বে ছিলেন সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ।
এছাড়াও জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের (ইউএইসসিআর) সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফরেনসিক অ্যানথ্রোপোলজিস্ট ও ফরেনসিক কনসালটেন্ট ড. লুইস ফনডেরিডার-এর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে মরদেহ উত্তোলন কার্যক্রম শুরু হয়।
সিআইডি জানায়, এর আগে বিচারবহির্ভূত ও নির্বিচার হত্যাকাণ্ড বিষয়ক স্পেশাল র্যাপোর্টিয়ার ও জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি মরিস ট্রিডবেল বিনজ বাংলাদেশে এসে সিআইডির ফরেনসিক, ডিএনএ ও মেডিকেল ফরেনসিক টিমকে দুই দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ দেন।
মরদেহ উত্তোলন, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, প্রোফাইলিং এবং পুনঃসমাধিস্থকরণ—সমগ্র প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়েছে। এই প্রটোকল সম্ভাব্য বিচারবহির্ভূত মৃত্যুর তদন্তে মানবাধিকার ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা হিসেবে স্বীকৃত।
রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১১৪টি মরদেহ উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এই কার্যক্রমে সিআইডির পাশাপাশি ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি), ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ, জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.