জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) লাইসেন্স গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সহজীকরণ আনার ফলে আগের তুলনায় দ্রুত সময়ের মধ্যেই সম্ভব হবে শিপিং এজেন্ট লাইসেন্স প্রদান।
সম্প্রতি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সংযোজন করে শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৫ জারি করেছে এনবিআর।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, কাস্টমস স্টেশনভিত্তিক শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সের সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পূর্বানুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এতে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ স্বল্প সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি করতে পারবে বলে মনে করছে এনবিআর।
এছাড়া শিপিং এজেন্ট লাইসেন্স পেতে আবেদনকারীদের জন্য আর কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি কর্তৃক গৃহীত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক নয়। কেবল দাখিলকৃত কাগজপত্র সঠিক থাকলেই সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে লাইসেন্স ইস্যু করা হবে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ জানান, দেশের বিভিন্ন সমুদ্র ও নৌবন্দর সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশন থেকে শিপিং এজেন্ট লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে এনবিআর ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
এর আগে শিপিং এজেন্ট লাইসেন্স ইস্যুর জন্য কোনো স্বতন্ত্র বিধিমালা ছিল না। কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২০-এর আওতায় শিপিং এজেন্ট লাইসেন্স প্রদান করা হতো। কার্যক্রমকে আরও সহজ ও সময়োপযোগী করতে আলাদা বিধিমালার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।
এনবিআর জানায়, পুরোনো বিধিমালার আওতায় ইস্যুকৃত লাইসেন্স শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশন ও সেই স্টেশনের অধীন বন্দর এলাকায় কার্যকর ছিল। ফলে এক স্টেশনের লাইসেন্স দিয়ে অন্য স্টেশনের আওতাধীন বন্দরে কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না। তবে নতুন বিধিমালায় এই সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে একবার লাইসেন্স পেলে দেশের যেকোনো সমুদ্র বা নৌবন্দরে শিপিং এজেন্ট হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.