আটলান্টিক মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ধাওয়ার মুখে থাকা একটি তেলবাহী ট্যাংকারের গায়ে রাশিয়ার পতাকা এঁকেছেন জাহাজের নাবিকেরা। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, রাশিয়ার নাম ভাঙিয়ে সুরক্ষা পেতেই জাহাজের গায়ে এই পতাকা আঁকা হয়েছে। গত মঙ্গলবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
‘বেলা ১’ নামের এই বিশাল জাহাজটি বর্তমানে ভেনেজুয়েলা থেকে দূরে খোলা সাগরে অবস্থান করছে। মার্কিন কোস্ট গার্ডের সদস্যরা আধা মাইল দূর থেকে জাহাজটিকে অনুসরণ করছেন। তারাই প্রথম খেয়াল করেন, জাহাজের গায়ে কাঁচা হাতে ওই পতাকাটি আঁকা হয়েছে।
গত ২১ ডিসেম্বর ভেনেজুয়েলা থেকে তেল নিতে যাওয়ার সময় জাহাজটি আটকানোর চেষ্টা করে মার্কিন কোস্ট গার্ড। কিন্তু নির্দেশ না মেনে জাহাজটি উল্টো দিক পরিবর্তন করে বিপরীত দিকে যেতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরানের তেল পরিবহনের দায়ে এই জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তখন থেকেই ধীরগতির এই জাহাজটির পিছু নিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে যখন কোস্ট গার্ড জাহাজটিতে ওঠার চেষ্টা করে, তখন এতে গায়ানার পতাকা ওড়ানো ছিল। যদিও সেই পতাকার কোনো বৈধতা ছিল না। আন্তর্জাতিক শিপিং ডেটাবেসেও বর্তমানে জাহাজটির নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে জাহাজের গায়ে রাশিয়ার পতাকা এঁকে দিয়ে নিজেদের রুশ জাহাজ দাবি করায় এটিকে আটক করার আইনি প্রক্রিয়া এখন বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, তেল নিতে জাহাজটি আর ভেনেজুয়েলায় ফিরে যাবে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন হয়তো জাহাজটি আটকের পরিকল্পনা বাদও দিতে পারে।
তবে হোয়াইট হাউস থেকে নির্দেশ এলে যেন সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে জন্য সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। কোনো জাহাজ নির্দেশ অমান্য করলে তার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘মেরিটাইম স্পেশাল রেসপন্স টিম’ বা বিশেষ বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
চলতি মাসে অন্য দুটি তেলের ট্যাংকার কোস্ট গার্ডের নির্দেশে থামলেও ‘বেলা ১’-এর নাবিকেরা কেন থামেননি বা আত্মসমর্পণ করেননি, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশায় আছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
মূলত ভেনেজুয়েলার ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধের অংশ হিসেবেই জাহাজটিকে তাড়া করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর আয়ের উৎস বা অর্থনীতির চাকা বন্ধ করে দিতে পারলেই তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানো সহজ হবে।
ভেনেজুয়েলার তেল খাতের ওপর চাপ বাড়াতে এবার আরও চারটি তেল কোম্পানি ও চারটি ট্যাংকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দপ্তর। গত বুধবার এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়া হয়।
মার্কিন অর্থ দপ্তর জানায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ট্যাংকারগুলোর মধ্যে দুটি হংকংয়ের পতাকাবাহী। বাকি দুটির একটি গিনি ও অন্যটি পানামার পতাকাবাহী। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এই জাহাজগুলো মাদুরো সরকারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করছে।
এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘মাদুরো সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে প্রচারণা শুরু করেছেন, তা বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখা হবে।’
ট্রাম্প প্রশাসনের ধারাবাহিক চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবেই নতুন এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনে সহায়তার অভিযোগে আরও ছয়টি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
ওই সময় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর স্ত্রীর তিন ভাতিজা এবং মাদুরো-ঘনিষ্ঠ আরেক ব্যবসায়ীর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.