মানবতাবিরোধী অপরাধে ইনুর বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্যসহ সাক্ষ্যগ্রহণ আজ

২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে আজ। একইসঙ্গে প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের কথা রয়েছে।

রোববার (৩০ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক, চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী এবং প্যানেলের অন্য দুই সদস্য। অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর এ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

এদিকে, হাসানুল হক ইনু আনুষ্ঠানিক অভিযোগের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেছেন এবং তিনি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’কে এক ধরনের মিথ্যা বা ‘সো-কলড’ অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। প্রসিকিউশন তার এই বক্তব্যকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার সঙ্গে তুলনা করে এর বিরুদ্ধে আবেদন করেছেন। আজ ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারে।

২ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে আদালত ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আটটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়। এর পরেই সূচনা বক্তব্য এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই দিন বিচারক ইনুকে অভিযোগগুলো পড়ে শোনান, এবং ইনু নিজেকে সকল অভিযোগ থেকে নির্দোষ দাবি করেন।

আগে ২৮ অক্টোবর, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ইনুর পক্ষে শুনানি করেন, এবং তার ক্লায়েন্টের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে অব্যাহতির আবেদন করেন। তবে প্রসিকিউশন জানান, ১৪ দলের শরিক নেতা হিসেবে ইনু কোনোভাবেই দায়মুক্ত হতে পারেন না।

এ মামলায় ২৩ অক্টোবর শুনানিতে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন। ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর, হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ায় গণহত্যায় সহযোগিতাসহ মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়, এবং ২৯ সেপ্টেম্বর তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করা হয়, এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এই জাসদ নেতা, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীকে হারিয়ে যান।

এ মামলার প্রেক্ষিতে, কুষ্টিয়া শহরে ওই গণঅভ্যুত্থানের সময় শহীদ হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, সুরুজ আলী বাবু, চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ এবং উসামা। আহত হন আরও অনেক নিরীহ মানুষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইনুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়, এবং তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়।

এছাড়া, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ইনুর বিরুদ্ধে ৩৯ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগ পত্র দেওয়া হয়েছে, এবং সাক্ষী হিসেবে ২০ জনকে মনোনীত করা হয়েছে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.