ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে টানা প্রবল বর্ষণে চরম বিপর্যয়ের মুখে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের বিশাল অঞ্চল। মৌসুমি বৃষ্টি ও একের পর এক ঝড়ের আঘাতে অঞ্চলটিতে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও শত শত মানুষ।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো হতাহতের তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের তাপনুলি থেকে সিবোলগা পর্যন্ত সড়কপথে যোগাযোগ পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চলছে। গত তিন দিন ধরে ওই এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
সুহারিয়ান্তো যোগ করেন, উদ্ধারকারী কর্মীরা ভূমিধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়ক থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানোর চেষ্টা করছেন। সড়কে আটকে থাকা অনেক মানুষের খাদ্যসহ জরুরি সহায়তার প্রয়োজন। ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তায় রোববার থেকে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি করা হবে।
এদিকে থাইল্যান্ডের দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন বিভাগ জানিয়েছে, দক্ষিণের ১২টি প্রদেশে ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট এই বন্যায় ১৪ লাখের বেশি পরিবার এবং ৩৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
থাই সরকারের মুখপাত্র সিরিপং এক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন, আটটি প্রদেশে মোট ১৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সংখলা প্রদেশেই অন্তত ১২৬ জন মারা গেছে।
প্রসঙ্গত, গত এক সপ্তাহ ধরে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে টানা প্রবল বর্ষণে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের অনেক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এসব মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। দুর্যোগ পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে শ্রীলঙ্কা। দেশটিতে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়-বন্যায় ১৫৩ জন মারা গেছেন।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.