বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে বড় চাহিদা হচ্ছে কর্মসংস্থান। টেকসই অর্থনীতি গড়তে হলে বিনিয়োগ অপরিহার্য; টাকা ছাপানো বা ঋণ নেওয়া দিয়ে অর্থনীতি দীর্ঘস্থায়ী হয় না।”
তিনি উল্লেখ করেন, দেশে অর্থনৈতিক সমস্যার মূল কারণ হলো পৃষ্ঠপোষকতামূলক রাজনীতি ও সুবিধাভোগী অর্থনীতি। বিএনপি অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করতে চায়, যাতে প্রত্যেক নাগরিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারে। এ লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পে যুক্ত উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ, কাঁচামাল, দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজাইনিং, ব্র্যান্ডিং ও অনলাইন মার্কেটিং–সুবিধা দেওয়া হবে। উদ্যোক্তারা ই–কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারবে, যা কর্মসংস্থান, জিডিপি বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়ক হবে।
যুবসমাজের আত্মকর্মসংস্থানে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। দেশের প্রতিটি জেলায় স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপন করা হবে। সরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগও নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পুঁজিবাজারের আইন ও নিয়ম সহজ করা হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থায় অভিজ্ঞতা ও বিশ্ববাজার সম্পর্কে সচেতনতা থাকা প্রয়োজন।
আমীর খসরু বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চারটি মূলনীতি অনুসরণ করা হবে: বিনিয়োগ হবে ভ্যালু ফর মানি (সঠিক লাভ নিশ্চিত করা), রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট নিশ্চিত করা, বিনিয়োগ থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।
তিনি যোগ করেন, বিএনপি সরকারের লক্ষ্য দেশের প্রত্যেক নাগরিককে অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া, যা বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা। বিনিয়োগের মাধ্যমে শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও সমৃদ্ধি আনা হবে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.