শিল্প খাতে দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ যুগ্ম মহাপরিদর্শকের

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক মো. মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া বলেছেন, বাংলাদেশের দুর্ঘটনাগুলো শুরু হয়েছিল তৈরি পোশাক খাত দিয়ে। একর্ড অ্যালায়েন্সের কাজের ফলে তৈরি পোশাক খাতে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রিত হলেও অন্যান্য শিল্পে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।

দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজপোর্টাল গণমাধ্যম এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) আয়োজনে ‘শিল্প খাতে অগ্নি ও রাসায়নিক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন ও টেকসই কর্মপরিবেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে এই আয়োজন শুরু হয়।

মো. মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, আমরা একর্ড অ্যালায়েন্স এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটের তিনটি উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনা করেছিলাম যে, যেসব গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান একর্ড অ্যালায়েন্স বা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটের আওতায় নেই, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। ২০১৬-১৮ সেফটি উইংয়ে কাজ করার সময় আমরা সরকারের কাছে একটি প্রকল্প জমা দিই। সেখানে ৩ হাজার ৭০০ কারখানা চিহ্নিত করা হয়, যার মধ্যে ১৬২টি কারখানাকে লাল তালিকাভুক্ত করা হয়। এগুলো তখনই খালি করে বন্ধ করা প্রয়োজন ছিল। আমরা অনেক চাপের পর কিছু গার্মেন্টস সরাতে পেরেছিলাম, তবে কিছুদিন পর সেই ভবনগুলোতে অন্য প্রতিষ্ঠান ঢুকে যায়। মহাখালীর রসুলবাগে যেখানে কারখানা সরানো হয়েছিল, পরে সেখানে হাসপাতালের নার্সিং ইনস্টিটিউট হয়েছে—যা কাম্য নয়।

তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে চিন্তা করলে দুর্ঘটনা রোধ আমাদের করতেই হবে। চুরিহাট্টা দুর্ঘটনার তদন্তে রাজউক ও ফায়ার সার্ভিস ছিল, যেখানে সিদ্ধান্ত হয়—প্রথম বিজনেস পারমিশন যে প্রতিষ্ঠান দেয়, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যবসার প্রকৃতি মিলছে কিনা সেটিও দেখতে হবে। ২০১৮ সালে সচিবের সঙ্গে মিটিংয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে বলা হয়েছিল—যাকে তাকে লোন না দিতে। অর্থাৎ শিল্প কোন এলাকায় হবে, আবাসিক কোন এলাকায়—এসব বিষয়ে ড্যাপের পরিকল্পনা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন জরুরি।

তিনি বলেন, শিল্প এলাকা থাকা সত্ত্বেও ড্যাপে শ্রম মন্ত্রণালয়কে কোনও জায়গা দেওয়া হয়নি। আমাদের অংশগ্রহণ না থাকলে আমরা জানতে পারি না কোন এলাকা শিল্প জোন, কোনটি নয়। যদি আমরা যুক্ত হতে পারতাম, মতামত দিতে পারতাম। দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি, যেখানে রাজউক, ড্যাপ টিম ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো যুক্ত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, এখন যদি আমরা মনে করি আমরা আর দুর্ঘটনা চাই না—তাহলে ধরে ধরে কাজ করতে হবে। কোন এলাকায় কোন ধরনের দোকান বা শিল্প হবে, কোনটি হবে না—তা নির্দিষ্ট করতে হবে। দাহ্য বস্তু ও তাপ উৎপাদনকারী স্থাপনার মধ্যে সম্পর্ক যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ফায়ার সার্ভিস, সিটি করপোরেশন ও আমাদের বিভাগ একসঙ্গে কাজ করলে অন্তত ঢাকা শহরের দুর্ঘটনা অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব।

এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহমেদ খান, গণমাধ্যমের নির্বাহী সম্পাদক উদিসা ইসলাম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মেইনটিনেন্স) লে. কর্নেল মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, কর্মজীবী নারীর প্রকল্প সমন্বয়ক রিনা আমেনা, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আবুল বাশার মিয়া, জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল আহসান জুয়েল, নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আখতার মাহমুদ, বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আখতার, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার, বিজিএমইএর সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি মো. শফিকুল ইসলাম, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের উইমেন রাইটস অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি লিড মোরিয়াম নেসা এবং বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইয়াসির আরাফাত খান।

গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে গোলটেবিল আলোচনাটি সরাসরি প্রচারিত হচ্ছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.