ভারতের ত্রিপুরা, কুমিল্লা ও ফেনী থেকে নেমে আসা উজানের পানির চাপে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর রেগুলেটর ভেঙে গেছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আশ্রয়ের জন্য স্থানীয় হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটছেন।
সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় পানির অতিরিক্ত চাপে রেগুলেটরটি ভেঙে যায় বলে জানা গেছে। এর ফলে কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট, ফেনীর সোনাগাজী ও দাগনভূঞাসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আজ সকাল ১০টায় ভারতের পানির চাপে কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। এতে ভাটার সময় বন্যার পানি নামলেও জোয়ারের সময় লোকালয়ে লবণাক্ত পানি ঢুকবে। এতে একদিকে লোকালয় আরও প্লাবিত হবে, অন্যদিকে লবণাক্ততায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেবে।
এ তথ্য নিশ্চিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মুন্সি আমীর ফয়সাল বলেন, ‘এটি ভেঙে যাওয়ার ফলে ওই এলাকায় লবণাক্ত পানি প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে।’
জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পানির তোড়ে রেগুলেটর দেবে গিয়ে কপাট ভেঙে গেছে। ভাটার সময় বন্যার পানি নামলেও জোয়ারের সময় এখন লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে পারে। বিষয়টি নিয়ে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং টিমসহ কাজ করা হচ্ছে।
মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বলেন, তীব্র পানির চাপ সহ্য করতে না পেরে রেগুলেটর ভেঙে গেছে। আমাদের মুছাপুর ক্লোজার শেষ। স্থানীয় মানুষজন কান্নাকাটি করছে। সবাই অসহায় হয়ে পড়েছে। জোয়ার হলে এখন পুরো কোম্পানীগঞ্জ ভেসে যাবে। আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী জানান, মুছাপুর রেগুলেটরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ারদের কাজের সুবিধার্থে রেগুলেটরের আশপাশের এলাকায় ভিড় না করার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।
অর্থসূচক/এএইচআর



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.