কুমিল্লায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে হামলা, গুলিবিদ্ধ ৮

সারা দেশে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, হত্যার প্রতিবাদ, গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি এবং ৯ দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলা ও গুলিতে আট জন গুলিবিদ্ধ ও প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার নগরীর রাণীর দিঘীর দক্ষিণ পাড় ও বাগিচাগাও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিন সকালে কুমিল্লা জিলা স্কুল এলাকায় গণমিছিলের উদ্দেশে অবস্থান নেন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী।

এ সময় তারা বিভিন্ন ধরনের গান, কবিতা আবৃত্তি ও স্লোগান দিতে থাকেন। তাদেরকে বাধা দিতে দুই পাশে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। এ সময় সরকারকে ‘স্বৈরাচার’ উল্লেখ করে পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ‘এক দুই তিন চার, স্বৈরাচার তুই গদি ছাড়’, ‘শিবির ট্যাগের ছলচাতুরী, বুইজা গেছে জনগণ’, ‘দফা এক দাবি এক, স্বৈরাচারের পদত্যাগ’, ‘আবু সাঈদ মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।

পরে দু’পাশ থেকে শিক্ষার্থীদের উপর গুলি করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় স্থানীয় পত্রিকার দু’জন সাংবাদিককে মারধর করে ফোন নিয়ে যান তারা। এছাড়াও আন্দোলনকারী নারী শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে চড়-থাপ্পড় ও লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এরপর টাউনহল মোড় থেকে টমসম ব্রিজ রোডের সিএনজি স্টেশন, ভিক্টোরিয়া কলেজ গেইট, রাজগঞ্জ মোড়, জিলা স্কুল গেইটসহ বিভিন্ন গলিতে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে শর্টগান, রামদা, লাঠি নিয়ে মহড়া দেন পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক দেখলেই মারধর ও হুমকি দিতে থাকেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, সারাদেশের সাথে সমন্বয় করে আজকে আমরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছি। সরকারের পদত্যাগ ছাড়া শিক্ষার্থী সমাজ আর ঘরে ফিরবে না। এ আন্দোলন আর কোটা আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না। পুলিশ প্রশাসন আমাদের ভাইদের উপর গুলিয়ে চালিয়েছে। তাদেরকে বলবো, এখন সাবধান হোন। আপনাদেরও ছেলে-মেয়ে আছে, তাদের দিকে তাকান। আর কুমিল্লার সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন পয়েন্ট পয়েন্টে অবস্থান করে আমাদের বাধা দিচ্ছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আবু সাঈদের মতো জীবন দিতে আজকে মাঠে নেমেছি। জীবন দেবো নাহয় স্বৈরাচার সরকার পদত্যাগ করে মাঠ ছাড়বো। আমার ভাইগুলোর রক্তের দাগ বাংলার জমিনে এখনো শুকায়নি। কি দোষ ছিল তাদের? তারা সংবিধান অনুযায়ী তাদের অধিকারের কথা বলেছিল। আজকে আমাদের আন্দোলনের দাবি একটা, স্বৈরাচার সরকারকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে’।

অর্থসূচক/এএইচআর

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.