কাফনের কাপড়-পতাকা ও শিকল পরে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি

কোটা সংস্কার ও ২০১৮ সালের মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহালের দাবিতে সারা দেশে চলছে শিক্ষার্থীদের ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি। আন্দোলনের প্রধান পয়েন্ট শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিতে জাতীয় পতাকা, কাফনের কাপড় ও শিকল পরে অবরোধে অংশ নিয়েছেন অনেকে।

সোমবার (৮ জুলাই) রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে দেখা যায়, পিঠে সরকারি বিভিন্ন চাকরিতে ‘কোটা বৈষম্যের’ তথ্য তুলে ধরে এবং হাতে-গলায় শিকল পরে আন্দোলন অংশ নিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এক শিক্ষার্থীর পিঠে লেখা রয়েছে ‘প্রাইমারিতে কোটা ৯৬ শতাংশ, রেলে ৮২ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে ৭০ শতাংশ, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি ও নন-ক্যাডারে ৬০শতাংশ ও বিসিএসে ৫৬শতাংশ!!!’

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের দেশে মেধাবীরা কোটার কাছে বন্দি। প্রতিটি চাকরিতে অর্ধেকেরও বেশি কোটা, কোনও চাকরিতে প্রায় শতভাগ। এই কোটা প্রথার কারণে অনেক মেধাবী তরুণ পড়াশোনা শেষে হতাশায় আত্মহত্যা করে। আমাদের এই কোটার শিকল ভাঙতে হবে, মেধাবীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

পতাকা গায়ে দিয়ে আন্দোলনে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসিমউদদীন হলের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার রেজা। রেজা বলেন, যেই বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমরা এই লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছি। আবারও সেই স্বাধীন দেশে কোটা প্রথার মাধ্যমে বৈষম্য তৈরি মানে এই জাতীয় পতাকার অপমান। আমরা এই বৈষম্য কখনোই মেনে নেব না। আমাদের ন্যায্য দাবি পূরণ করেই ঘরে ফিরবো।

এছাড়াও, ঢোলের তালে তালে গান কবিতা ও স্লোগানে স্লোগানে চলছে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি। এসময় একদল শিক্ষার্থীকে প্রতিবাদী গ্রাফিতি আঁকতে দেখা যায়। ‘একে তো কোটার বাঁশ, তার উপরে প্রশ্নফাঁস!’ রাজপথে এই গ্রাফিতি আঁকেন আন্দোলনকারীরা।

উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই থেকে নতুন করে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলছে। ৭ জুলাই থেকে সারাদেশে রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অবরোধের ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।

অর্থসূচক/এমএস

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.