নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকারের নীতি সহায়তা চান রেঁস্তোরা ব্যবসায়ীরা

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং রেঁস্তোরা শিল্পের কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়নে সরকারের নীতি সহায়তা চান এই খাতের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা হ্রাস, রেঁস্তোরা সমূহের ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন এবং এই খাতের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

বুধবার (০৩ জুলাই) সকালে এফবিসিসিআই’র মতিঝিল কার্যালয়ে ফুড অ্যান্ড ফুড সেইফটি বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় এই আহ্বান জানান ব্যবসায়ী নেতারা।

উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ইমরান হাসান। কমিটির ডিরেক্টর ইন-চার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এফবিসিসিআই’র পরিচালক খন্দকার রুহুল আমিন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি অংশগ্রহণ করেন এফবিসিসিআই’র সভাপতি মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, সবার জন্য পুষ্টিকর এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের কোনও বিকল্প নাই। বাংলাদেশের মত বিপুল জনসংখ্যার দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কঠিন, তবুও আমাদের কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়ন করতে হবে।

রেঁস্তোরার পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং খাদ্যের মান নিশ্চিতকরণে রেঁস্তোরা শিল্পের জন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন এফবিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে শুধু বিদেশ পাঠালে চলবে না। নিজেদের দেশের জন্যও খাতভিত্তিক দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। এ সময়, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত এবং রেঁস্তোরা ব্যবসায়ীদের সদস্যা দূরীকরণে এফবিসিসিআই’র সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন মাহবুবুল আলম।

সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, ভেজাল রোধ, অগ্নি নিরাপত্তা এবং রেঁস্তোরা শিল্পের অন্যান্য সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সমাধানের উপায় খুঁজে বেড় করতে এই খাতের উদ্যোক্তা ও অংশীজনদের স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দেন এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী।

সভার মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, রেঁস্তোরা শিল্পের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা, লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়নের প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ভেজাল বিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা, অভিযান পরিচালনা এবং খাদ্যে ভেজাল নির্ধারণে গাইডলাইন ঠিক করা, ভেজাল নির্ণয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের টেস্টিং সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি করা, অভিযানের নামে ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে হেনস্তা বন্ধ করা, নিরাপদ খাদ্য ও রেঁস্তোরা ব্যবসার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সকল অংশীজনকে নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সেমিনার আয়োজন, রেঁস্তোরা মালিকদের ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ প্রদান, রেঁস্তোরা শিল্পের জন্য আলাদা বিভাগ বা কর্তৃপক্ষ গঠন করাসহ বেশকিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন কমিটির সদস্যরা।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র পরিচালক হাফেজ হাজী হারুন-অর-রশিদ, মো. নিয়াজ আলী চিশতি, স্ট্যান্ডিং কমিটির কো-চেয়ারম্যান এবং সদস্যরা।

অর্থসূচক/ এইচএআই

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.