আদানির শেয়ার কারসাজির ঘটনায় সেবির অভিযোগ, অস্বীকার করলো হিনডেনবার্গ

আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে শেয়ার কারসাজির অভিযোগ আনে হিনডেনবার্গ। ভারতের পুঁজিবাজা নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি সেই হিনডেনবার্গের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ এনে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে। তবে হিনডেনবার্গ রিসার্চ এই নোটিশের জবাবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক সংবাদে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

হিনডেনবার্গ রিসার্চ সেবির নোটিশের জবাবে নিজেদের ওয়েবসাইটে বলেছে, যারা ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী ধনী ব্যবসায়ীর জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচন করতে চায়, তাদের মুখ বন্ধ করতে এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে সেবি আদানি গোষ্ঠী নিয়ে দেওয়া হিনডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিবেদন সম্পর্কে বলেছে, হিনডেনবার্গ এই প্রতিবেদন দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যায্য বাণিজ্য রীতির আশ্রয় নিয়েছে। তারা আরও বলেছে, শর্ট সেলার কোম্পানি হিনডেনবার্গ নিউইয়র্কের এক হেজ ফান্ডের সঙ্গে যোগসাজশে এই প্রতিবেদন দিয়েছে।

এক কারণ দর্শাও নোটিশে সম্প্রতি সেবি বলেছে, হিনডেনবার্গ রিসার্চ ইচ্ছা করে কিছু তথ্য বিকৃত করে চমক তৈরির চেষ্টা করেছে। সাধারণত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আগে কারণ দর্শাও নোটিশ দেওয়া হয়।

কারণ দর্শাও নোটিশ দেওয়ার পর ভারতের এই বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা যেকোনো কোম্পানিকে আর্থিক জরিমানা এবং এমনকি পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। সেবি হিনডেনবার্গ রিসার্চকে ২১ দিনের মধ্যে অভিযোগের জবাব দিতে বলেছে।

২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ আনে হিনডেনবার্গ রিসার্চ। তারা বলে, আদানি গোষ্ঠী কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি করে লাভবান হয়েছে। সেই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর আদানি গোষ্ঠী বড় ধরনের সমস্যায় পড়ে। সেই ধাক্কায় আদানি গোষ্ঠীর বাজার মূলধন ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি কমে যায়। গ্রুপের মালিক গৌতম আদানি এর আগে শীর্ষ ধনীর বৈশ্বিক তালিকায় পাঁচের মধ্যে থাকলেও একপর্যায়ে ২০-এর ঘরে নেমে যান।

হিনডেনবার্গ রিসার্চের কাজই হচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানির দুর্বলতা খুঁজে বের করে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করা। এ কাজের উদ্দেশ্য হলো তাদের শেয়ারমূল্য কমিয়ে দেওয়া এবং সেখান থেকে লাভ করা।

নোটিশে যুক্তরাষ্ট্রের হেজ ফান্ড কিংডম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করেছে সেবি। হিনডেনবার্গ যে আদানি গোষ্ঠীর শেয়ার শর্ট সেল করেছে, সেই প্রক্রিয়ায় তাদের নীরব অংশীদার ছিল কিংডম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট। এই কোম্পানি ১৯৮৩ সালে নিউইয়র্কে প্রতিষ্ঠিত হয়। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালে এই কোম্পানির সম্পদ ছিল ৬৪ কোটি ডলার।

সেবি ৪৬ পৃষ্ঠার নোটিশে হিনডেনবার্গ রিসার্চ ও কিংডমের মধ্যে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে। ২০২২ সালের শেষ দিকে হিনডেনবার্গের সঙ্গে কিংডমের এই সম্পর্ক গড়ে ওঠে অর্থাৎ আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশের ঠিক আগে আগে।

হিনডেনবার্গ নিজেরাই বলেছে, আদানি গোষ্ঠীর শেয়ার শর্টসেল করে তারা মোট ৪১ লাখ ডলার আয় করেছে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আদানি গোষ্ঠীর যে বন্ড আছে, সেখান থেকে মোট ৩১ হাজার ডলার আয় করেছে তারা।

হিনডেনবার্গ বলেছে, দুই বছর ধরে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লেগে থাকার জন্য যে ব্যয় হয়েছে, এই গোষ্ঠীর শেয়ার শর্টসেল করে শেষ পর্যন্ত তারা সেই ব্যয় পুষিয়ে লাভের কিছু অর্থ ঘরে তুলতে পেরেছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.