ফিলিস্তিনিদের রাফা ছাড়ার নির্দেশ ইসরায়েলের

এত দিন দক্ষিণ গাজাতেই আশ্রয় নিচ্ছিলেন লাখ লাখ ফিলিস্তিনি। উত্তর এবং মধ্য গাজা থেকে তারা দক্ষিণ গাজায় এসেছিলেন কারণ, ওই দুই জায়গা ফাঁকা করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসরায়েল। দক্ষিণ গাজায় মিশরের সীমান্তের কাছে রাফায় বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এই রাফার পথ দিয়েই গাজায় ঢুকছে আন্তর্জাতিক সাহায্য। এবার সেই রাফাই খালি করার নির্দেশ দিলো ইসরায়েল। এর অর্থ, লাখ লাখ মানুষকে নতুন করে আশ্রয় শিবির খুঁজতে হবে।

ইসরায়েল জানিয়েছে, রাফা এবং খান ইউনুসে রকেট হামলা শুরু হয়েছে। আপাতত এই আক্রমণ চলবে। সে কারণেই সাধারণ মানুষকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, বেশ কিছু ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য় গাজার সব চেয়ে বড় হাসপাতালের প্রধান।

আল শিফা হাসপাতালের প্রধান ডক্টর মোহাম্মেদ আবু সালমিয়াকে সাত মাস আগে আটক করেছিল ইসরায়েল। এতদিন তাকে কোনো চার্জ ছাড়াই আটক করে রাখা হয়েছিল। বস্তুত, গাজার এই আল শিফা হাসপাতালটির ভিতরে ঢুকে অভিযান চালিয়েছিল ইসরায়েল। তাদের অভিযোগ ছিল, এই হাসপাতালের ভিতর এবং নিচে হামাস সদস্য়দের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। সে সময়েই সালমিয়াকে আটক করা হয়েছিল। সোমবার বেশ কিছু ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল, তার মধ্যে মোহাম্মেদ আবু সালমিয়া অন্য়তম।

এদিকে রাফা এবং খান ইউনুস খালি করার নির্দেশ ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টেফানে দুজারিক বলেছেন, ‘আরও একবার প্রমাণিত হলো যে গাজায় কোনো জায়গাই নিরাপদ নয়। সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে আরো গুরুত্বপূর্ণ ব্য়বস্থা গ্রহণ করতে হবে।’ অন্তত ১০ লাখ মানুষ দক্ষিণ গাজায় মিশর সীমান্তে আশ্রয় শিবিরে বসবাস করছেন। নতুন করে কোথায় গিয়ে তারা আশ্রয় নেবেন তা এখনো স্পষ্ট নয়।

গাজায় ইসরায়েলের হামলায় এখনো পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার সাধারণ মানুষের মৃত্য়ু হয়েছে। তার মধ্যে বহু নারী এবং শিশু আছে। সূত্র: ডিডাব্লিউ, রয়টার্স, এপি, এএফপি

অর্থসূচক/এএইচআর

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.