ধৃষ্টতা এমন পর্যায়ে গেছে, সাংবাদিকদের কিনে ফেলেছি বলতেও দ্বিধা করে না: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে সরিয়ে দেওয়া কর্মকর্তা মতিউর রহমানের প্রথম স্ত্রী নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লায়লা কানিজ লাকির সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্যে উষ্মা প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, ধৃষ্টতা এমন পর্যায়ে গেছে যে, জনসম্মুখে ‘আমরা সব কিনে ফেলেছি’ বলতে দ্বিধা বোধ করে না।

সোমবার (১ জুলাই) পাক্ষিক পত্রিকা ‘বার্তা প্রবাহ’র ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

মোজাম্মেল হক বলেন, এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমানের প্রথম স্ত্রী উপজেলা চেয়ারম্যান সেদিন বলেছেন, বড় বড় সাংবাদিকদের কিনে নিয়েছি, সব থেমে যাবে। তার এমন ধৃষ্টতা। ধৃষ্টতা আছে বলেই তো এত অবৈধ সম্পদ করতে পেরেছেন। এখন ধৃষ্টতা এমন পর্যায়ে গেছে যে, জনসম্মুখে বলতে দ্বিধা বোধ করে না, আমরা সব কিনে ফেলেছি। এই দুর্বৃত্তায়নের যুগে ভালো পথে চলা খুবই কঠিন। আমি আশা করছি, সাংবাদিকরা জাতিকে সঠিক পথ দেখাবে, ভালো পথ দেখাবে।

কলমের শক্তি তলোয়ারের থেকেও বেশি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কলম যোদ্ধারা পাকিস্তানের ২৩ বছরে এ দেশে জনমত সৃষ্টিতে কাজ করেছেন। তারা জাতির দিক-নির্দেশক ছিলেন। অনেক কলমযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। এখনো কলমের সেই শক্তি আছে। আর আছে বলেই গত এক মাসে বাঘা বাঘা কর্মকর্তাদের আমলনামা প্রকাশিত হয়েছে। কলমের লেখনী এত শক্তিশালী।

কলমের শক্তিকে দু’ভাবে ব্যবহার করা যায় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, একটি হলো অপপ্রচার, মিথ্যাচারের জন্য, অপরটি হলো সত্য প্রকাশের জন্য। একটি ফুলের মধ্যে মধুও থাকে, বিষও থাকে। মৌমাছি একটি ফুল থেকে যেমন মধু নেয়, তেমনি বোলতা মাকড়শা বিষ নেয়। সংবাদপত্র একটি জাতিকে যেমন ভালো দিকে পরিচালিত করতে পারে, তেমনি বিপদগামীও করতে পারে।

সংবাদপত্রকে গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যারা দায়িত্বে থাকে তাদের সফলতাও থাকে, ব্যর্থতাও থাকে। যারা দায়িত্বে নেই, তাদের সফলতাও নেই, ব্যর্থতাও নেই। আমি মনে করি না, আমাদের সরকারের কোনো ভুল বা ব্যর্থতা নেই।

অর্থসূচক/এমএস

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.