ইসরাইলের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নিতে হামাসকে চাপ দিচ্ছে আমেরিকা

মার্কিন সরকার তাদেরকে ইসরাইলের প্রস্তাবিত একটি যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা মেনে নেয়ার জন্য চাপাচাপি করছে বলে দাবি করেছে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। যদিও তেল আবিবের ওই পরিকল্পনায় গাজায় ইসরাইলের পাশবিক আগ্রাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করে উপত্যকা থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের যে শর্ত হামাস দিয়েছে তা মেনে নেয়া হয়নি।

হামাসের লেবানন প্রতিনিধি ওসামা হামদান গতরাতে রাজধানী বৈরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াশিংটনের পক্ষে থেকে চাপ সৃষ্টি করার এ খবর দিয়েছেন।

তিনি বলেন, মার্কিন প্রশাসন ইসরাইলি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে অবিকৃত রেখে তা হামাসকে মেনে নেয়ার জন্য চাপাচাপি করছে। এটি হচ্ছে নিজের নোংরা চেহারাকে সৌন্দর্য প্রদানের লক্ষ্যে এই প্রশাসনের একটি অপচেষ্টা।

ইসরাইল গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় যে ভয়াবহ গণহত্যা চালিয়ে আসছে তাকে সর্বাত্মক পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে মার্কিন সরকার। আমেরিকা অস্ত্রের চালান না পেলে বহু আগে তেল আবিবকে গাজায় গণহত্যা বন্ধ করতে হতো। যুদ্ধের ময়দানে ইসরাইলের পক্ষ অবলম্বন করা সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতির আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করছে মার্কিন সরকার।

হামাস গাজায় যে যুদ্ধবিরতি চায় সেটি হতে হবে স্থায়ী এবং উপত্যকা থেকে সকল ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। কিন্তু ইসরাইল সরকার গাজায় আটক তার পণবন্দিদের মুক্ত করে নিতে সাময়িক যুদ্ধবিরতি দিতে চায়। ইসরাইলি যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সরাসরি বলে দিয়েছেন, পণবন্দিদের মুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ হবে না বরং হামাসকে তার ভাষায় ‘ধ্বংস করে’ গাজা আগ্রাসন বন্ধ হবে।

তবে হামাসের পক্ষে তাকে ধ্বংস করার এই হুমকি মেনে নিয়ে ইসরাইলি পণবন্দিদের মুক্ত করা সম্ভব নয়। এ কারণে গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা বর্তমানে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে ইসরাইলের মনোবাসনা পূরণ করার জন্য মার্কিন সরকার যে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তা ওসামা হামদানের বক্তব্যে স্পষ্ট হলো।

হামদান শনিবার রাতে বৈরুতে বলেন, আমরা আবারও ঘোষণা করছি, আমরা যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আন্তরিক; তবে তা হতে হবে স্থায়ী এবং সকল ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। এরপরই দু’পক্ষের বন্দি বিনিময় চুক্তি হবে। পার্সটুডে

অথসূচক/এএইচআর

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.