পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের ডিবিএ ডিগ্রি বাতিলের দাবি উঠেছে। তিনি ঢাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডক্টর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিবিএ) প্রোগ্রাম থেকে এ ডিগ্রি নিয়েছিলেন। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, ওই প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার ন্যুনতম যোগ্যতা তার ছিল না।
বুধবার (২৬ জুন) বিকেলে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে এ দাবি ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।
রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি থেকে সিনেট সদস্য রঞ্জিত কুমার সাহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেনজীর আহমেদকে দেওয়া ডিবিএ ডিগ্রি বাতিলের দাবি জানান।
এরপর সাদা দলের প্রতিনিধি হিসেবে অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়েদুল ইসলাম একই দাবি করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে বেনজীর আহমেদের ডিগ্রি গ্রহণে অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। সেখানে দেখা যায়, বেনজীর আহমেদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতাই ছিল না। ভর্তির জন্য স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হয়, শিক্ষাজীবনের সব পাবলিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হয়। বেনজীরের তা ছিল না, তবু ডক্টরেট ডিগ্রি পান তিনি।
বেনজীরের ভর্তির ক্ষেত্রে মৌলিক শর্তগুলো শিথিল করা হয়েছিল ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের তৎকালীন ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সুপারিশে। তিনি ছিলেন বেনজীরের ‘ডক্টরেট’ প্রোগ্রামের তত্ত্বাবধায়ক। শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বর্তমানে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে তার শত শত একর জমি, রাজধানী ঢাকায় অসংখ্য ফ্ল্যাট রয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। শেয়ারবাজারেও তার বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে, বিশেষ করে রিংশাইন টেক্সটাইল ও বেস্ট হোল্ডিংিসের মতো বিতর্কিত কোম্পানির বিপুল সংখ্যক প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়েছেন বেনজীরের পরিবার।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.