১৫ দিন পেলেন বেনজীর

দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জবাব দিতে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে আরও ১৫ দিন সময় দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ২৩ জুন তাকে দুদকে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগের নোটিশ অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার দুর্নীতির অভিযোগের জবাব দেওয়ার কথা ছিল বেনজীর আহমেদের। তিনি বুধবার ১৫ দিনের সময় চেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে কমিশনে আবেদন করেছেন। অনানুষ্ঠানিক একাধিক সূত্রে এই খবর জানা গেছে।

দুদক কমিশনার মো. জহুরুল হক বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের বলেন, বেনজীর আহমেদ ১৫ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেছেন– এই বিষয়টি তিনি জেনেছেন। এই আবেদনটি মূলত অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাদের কাছে থাকে। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা আবেদন দেখে সন্তুষ্ট হলে ১৫ দিনের সময় মঞ্জুর করতে পারেন। ১৫ দিন পর্যন্ত সময় চাওয়ার ব্যাপারে দুদক আইনে বলা আছে। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা এই কার্যক্রমটি পুরোপুরি স্বাধীনভাবে পরিচালনা করে থাকেন। এই বিষয়টি কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত নয়।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ দিনের সময় মঞ্জুর করার পর জিজ্ঞাসাবাদের পরবর্তী তারিখে বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের অবশ্যই দুদকে হাজির হতে হবে। ওই সময় হাজির না হলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেই বলে ধরে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের পরবর্তী কার্যক্রম চলবে।

দুদক আইন অনুযায়ী, এরপর বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব চেয়ে তাদের ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হবে। তাদের ঠিকানায় কাউকে না পাওয়া গেলে ভবনের ওয়ালে নোটিশ টানিয়ে জারি করা হবে। তারা সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সময় চেয়ে আবেদন করতে পারবেন। এসব ক্ষেত্রে তারা কার্যকর ভূমিকা না রাখলে আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। পরে মামলা তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দেওযা হবে।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জিসান মির্জা, দুই মেয়ে– ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাশিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে গত ২২ এপ্রিল জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এরপর গত ৩ মে পর্যন্ত তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশেই ছিলেন। বেনজীর আহমেদ স্বপরিবারে সিঙ্গাপুর চলে যান গত ৪ মে।

অর্থসূচক/এমএস

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.