ভারতে তুমুল চাঙ্গা পুঁজিবাজার, ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে সূচক

নির্বাচনী অনিশ্চয়তাকে পাশ কাটিয়ে ফের দৌঁড়াতে শুরু করেছে ভারতের পুঁজিবাজার। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দেশটির দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সব মূল্যসূচক। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক সেনসেক্স (এসঅ্যান্ডপি বিএসই সেনসেক্স)  নতুন রেকর্ড গড়েছে। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি৫০ সূচকও ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে ওঠে এসেছে।

খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের।

বৃহস্পতিবার সেনসেক্স ১ হাজার ১৯৬ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট বেড়ে ৭৫ হাজার ৪১৮ দশমিক ০৪ পয়েন্টে উন্নীত হয়। এদিন সূচকটি ৭৫ হাজার ৪৯৯ দশমিক ৯১ পয়েন্ট পর্যন্ত ওঠেছিল।  আগের দিন সূচকটির অবস্থান ছিল ৭৪ হাজার ২২১ দশমিক ০৬ পয়েন্ট।

বৃহস্পতিবার এনএসই নিফটি৫০ সূচক ৩৭০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধির পর লেনদেন শেষে ২২ হাজার ৯৬৭ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে এসে স্থির হয়।

এদিন উভয় বাজারের অন্যান্য মূল্যসূচকও ছিল উর্ধমুখী। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে এসঅ্যান্ডপি বিএসই মিডক্যাপ সূচক ৪৩ হাজার ৪৪২ পয়েন্টের নতুন রেকর্ড ছুয়েছে। যেখানে এসঅ্যান্ডপি বিএসই স্মলক্যাপ সূচক ৪৮ হাজার ২২৯ পয়েন্টের স্মরণকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড স্পর্শ করেছে৷
খাতগুলোর মাঝে, নিফটি ব্যাংক, অটো, ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস, পিএসইউ ব্যাংক এবং প্রাইভেট ব্যাংকের সূচকগুলি প্রায় ২ শতাংশ যোগ করেছে। তবে একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে এদিন নিফটি ফার্মা সূচক এদিন ০ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

গত ১৯ এপ্রিল ভারতে লোকসভার নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কিছুদিন আগে থেকে দেশটির পুঁজিবাজার প্রবল গতিতে উর্ধমুখী হতে থাকে। তখন পর্যন্ত ক্ষমতাসীন বিজেপি ও তার এনডিএ জোটের ক্ষমতায় বহাল থাকার সম্ভাবনা তীব্র ছিল। সরকার পরিবর্তন না হলে নীতিমালা ও উন্নয়নের বর্তমান ধারা বহাল থাকবে এমন আশাবাদে উজ্জীবিত হয়ে বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। কিন্তু প্রথম তিন ধাপের ভোট শেষ হওয়ার পর বিজেপি জোটের ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা ফিকে হতে থাকলে বাজার কিছুটা গতি হারায়। একদিকে সরকার পরিবর্তনে নীতিমালার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়া, অন্যদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় এলেও নড়বড়ে সরকার হওয়ার আশংকায় বিনিয়োগকারীদের আস্থায় চিড় ধরে। বিজেপিও বিষয়টিকে অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করে। এর প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তারা ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে, পুঁজিবাজারের প্রতিও তারা যত্নবান থাকবেন। তাতে আবার পুরনো গতি ফিরে পায় পুঁজিবাজার।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.