মৃতদেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এমপি আনার হত্যা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল বলেছেন, একজন সংসদ সদস্য খুন হয়েছেন। সরকার খুব গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখছে। তদন্ত বাধাপ্রাপ্ত হয়-এমন কোনও তথ্য না দিয়ে যতটুকু বলা যায়, সেটাই বলছি। এর মধ্যে ভারতের কেউ হত্যায় জড়িত কিনা সব তদন্ত হচ্ছে। মৃতদেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এমপি আনোয়ারুল আজীমের হত্যাকাণ্ডে ভারতের কেউ জড়িত আছে কিনা, এমন কোনও তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে দুই দেশের গোয়েন্দারা সেটা খুঁজে বের করবেন। প্রয়োজনে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা ভারতে যাবেন। হত্যার রহস্য ও হত্যাকারীদের প্রায় সবকিছুই চিহ্নিত। শুধু ঘোষণা দেওয়া বাকি আছে।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত যে সমস্ত তথ্য আসছে, সেগুলো নিয়ে কাজ করছি। আমরা যেটুকু শুনেছি, ভারতের একটি ফ্ল্যাট বাড়িতে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ভারতীয় পুলিশ আমাদের এগুলো জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় পুলিশ ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা গুরুত্বসহকারে এ বিষয় নিয়ে কাজ করছে। কারা কারা এর সাথে জড়িত, হত্যাকাণ্ডের কারণটা কী, এসব কিছুই আমরা আপনাদের বলব।

হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে ভারতীয় টিম বাংলাদেশে এসে কাজ করছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখনো আসেনি তবে কথাবার্তা চলছে। আমি তো আগেই বলেছি ঘটনাটা ঘটেছে ভারতে। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে যে সমস্ত তথ্য আছে, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে বাংলাদেশের মানুষ রয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডটি ভারতে ঘটিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত কিনা, এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই। দুই দেশের গোয়েন্দা, দুই দেশের পুলিশ সবাই মিলে যখন একমত হবে, তখনই আমরা আপনাদের জানাতে পারব। ঘটনাটা ঘটেছে ভারতে। বাংলাদেশের মানুষ এতে জড়িত আছে। ভারতের কেউ জড়িত থাকলে ভারতের গোয়েন্দা আমাদের জানাবে। বিষয়টি নিয়ে তারা গুরুত্বসহকারে কাজ করছে।

প্রয়োজনে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা ভারতে যাবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন হলে যাবেন। গোয়েন্দাদের কাজই তো এটা। তথ্যের জন্য গোয়েন্দারা যে কোনো জায়গায় যেতে পারেন। ভারতের গোয়েন্দারাও আসতে পারেন। হত্যাকাণ্ডটি হয়েছে ভারতে, ভারতেরও গোয়েন্দারা কাজ করছেন। আমাদের এখানে একটা মামলা করেছেন তার মেয়ে। সে মামলার আলোকে আমরাও কাজ করব। মামলা অনুযায়ী আমাদের পুলিশ এবং ভারতীয় পুলিশ একত্রিত হয়ে কাজ করবে। সত্যিকারের ঘটনা ও মোটিভ উদ্ধার করতে কাজ করবে। অনেক কিছুই আমরা শুনছি। যখন কনফার্ম হব তখনই জানাব।

এমপি আনার হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মার্কিন প্রবাসী আক্তারুজ্জামান শাহিনকে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা যা শুনেছি তিনি বাংলাদেশে আসেননি। ভারত থেকে আরেক দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এগুলো কোনো সুনিশ্চিত খবর নয়। যেগুলো আমাদের কাছে তথ্য এসেছে, আমরা সেগুলোই জানিয়েছি। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি।

উল্লেখ্য, আনোয়ারুল আজীম আনার ঝিনাইদহ-৪ (সদর ও কালীগঞ্জ) আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য। তিনি ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টানা তিনবার আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন তিনি। ১২ মে তিনি চিকিৎসার কথা বলে ভারতে যান। ১৪ মে থেকে পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটিও বন্ধ ছিল। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থেকে দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কলকাতায় উপদূতাবাসে যোগাযোগ করে খোঁজ নিতে বলা হয়।

বুধবার কলকাতা পুলিশ জানায়, দিল্লি ও কলকাতা দূতাবাসের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পরই আনোয়ারুল আজীমের খোঁজে তৎপরতা শুরু করে তারা। কলকাতায় এসে এমপি আনোয়ারুল আজীম তার কথিত বন্ধু স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে উঠেছিলেন। ১৮ মে গোপাল স্থানীয় বরাহনগর থানায় আজিমের বিষয়ে ‘নিখোঁজ’ দাবি করে জিডি করেন। বুধবার সকালে গোপাল বিশ্বাস স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, এমপি আজিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে কলকাতা পুলিশ তাকে জানিয়েছে।

 

অর্থসূচক/এএইচআর

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.