বিশ্বের যুদ্ধ-সংঘাত এড়িয়ে পাকিস্তানের পুঁজিবাজারে নতুন রেকর্ড

বিশ্বের কয়েকটি দেশে চলছে যুদ্ধ-সংঘাত। অনেক দেশের অর্থনীতি মন্দার কবলে পড়েছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও যুদ্ধ এড়িয়ে নতুন নতুন রেকর্ড করছে পাকিস্তানের পুঁজিবাজার। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বোচ্চ ৭২ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক কেএসই-১০০।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, আজ বুধবার (২৪ এপ্রিল) পাকিস্তানের বেঞ্চমার্ক সূচক কেএসই-১০০ রেকর্ড ৭২ হাজার ৫১ পয়েন্টে পৌঁছেছে। সূচকটি আগের দিন বন্ধ হয়েছিলো ৭১ হাজার ৩৫৯ পয়েন্টে। আজ ১ দশমিক ১৬ শতাংশ বা ৮৭২ পয়েন্ট বেড়ে ৭২ হাজার ১৮৬ পয়েন্টে উঠে। এরপর লেনদেন শেষে আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৯৭ শতাংশ বা ৬৯২ পয়েন্ট বেড়ে ৭২ হাজার ৫১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

করাচি ভিত্তিক টপলাইন সিকিউরিটিজ হাউজের সিইও সোহেল মোহাম্মদ বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বেশি শেয়ার ক্রয় করেছেন। এজন্য পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে (পিএসএক্স) আরও একটি নতুন রেকর্ড তৈরি হলো।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের চলতি হিসাবে রেকর্ড উদ্বৃত্ত রয়েছে। এখন বিনিয়োগকারীরা এপ্রিলের ভোক্তা মূল্য সূচকে (সিপিআই) একটি বড় পতনের আশা করছে। এর ফলে আগামী মাসগুলোতে সুদের হার কমতে পারে বলেও মনে করছেন তিনি।

এরআগে গত সোমবার (২২ এপ্রিল) পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক কেএসই-১০০ প্রথমবারের মতো ৭১ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করেছিলো। এর দুদিনের মাথায় আবারও নতুন মাইফলক অর্জন করলো কেএসই-১০০।

নেক্সট ক্যাপিটাল লিমিটেডের গবেষণা পরিচালক শাহাব ফারুক বলেন, সৌদি আরব থেকে প্রত্যাশিত বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে। পাশাপাশি চলতি এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ২২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এছাড়া নীতি সুদহার ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে। ব্যাংক খাতের শেয়ারের পাশাপাশি সিমেন্ট ও ইস্পাত খাতেও বিনিয়োগ বাড়ছে।

চেজ সিকিউরিটিজের গবেষণা পরিচালক ইউসুফ এম ফারুক বলেন, কর্পোরেট খাতে আয় বাড়ছে। পাশাপাশি সুদহার কমার প্রত্যাশার কারণে পুঁজিবাজারে উর্ধ্বমূখী ধরা বজায় রয়েছে। এছাড়া যেসব কোম্পানি এখনও ২০ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ দেয়, আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সিমেন্ট ও ব্যাংক খাতের শেয়ারে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এর ফলে বাজারের সূচ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ঋণ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনার প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বেড়েছে।

দেশটির পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার যদি রিয়েল এস্টেট খাতে কর বাড়ায়, বিনিয়োগকারীরা স্টক মার্কেটের দিকে ঝুঁকবে। এর ফলে ‘কেএসই-১০০’ আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে এক লাখ পয়েন্ট ছাড়াতে পারে।

অর্থসূচক/এমএস

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.