বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি’র চতুর্থ হালভিং সম্পন্ন

বিটকয়েন হালভিং হলো বিটকয়েনের কোডে লেখা একটি প্রাক-প্রোগ্রাম করার প্রক্রিয়া। এটি মাইনারের জন্য ব্লক পুরস্কার ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। এর ফলে নতুন বিটকয়েন প্রচলন কমে যায়।

বিটিসি’র ইতিহাসের চতুর্থ হালভিং শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সম্পন্ন হয়েছে। ক্রিপ্টো বিশ্লেষণী ওয়েবসাইট কয়েন গেকো’র বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিটকয়েন হালভিংয়ের পরো দাম প্রায় স্থিতিশীল ছিলো। হালভিং প্রক্রিয়ার সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম মাত্র দশমিক ৪৭ শতাংশ কমেছিলো। তখন বিটকয়েনের দাম দাঁড়িয়েছিলো ৬৩ হাজার ৭৪৭ ডলারে।

বিটকয়েনের মোট সরবরাহ ২১ মিলিয়নে সীমাবদ্ধ। এই সীমিত সরবরাহটি ধীরে ধীরে রিলিজ পাওয়ার বিষয়টি হালভিং নিশ্চিত করে। বিটকয়েন হালভিং সরাসরি এর লেনদেন গতিকে প্রভাবিত করে না। লেনদেনের গতি প্রাথমিকভাবে ব্লকের গতি ও বর্তমান নেটওয়ার্কের যানজটের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।

প্রতি চার বছরে বিটকয়েনে একবার হালভিং হতে থাকবে। অর্থাৎ ২১ মিলিয়ন বিটকয়েন মাইনিং করা পর্যন্ত এটি চলতে থাকবে। বর্তমানে চলছে বিটকয়েনের চতুর্থ হালভিং। চলতি এপ্রিলের হালভিং শেষ হওয়ার পরে, সমস্ত বিটিসি মাইন না হওয়া পর্যন্ত আরও ১২টি বিটকয়েন হালভিং বাকি থাকবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্রিপ্টোকারেন্সির বিনিয়োগকারীরা ‘বিটকয়েন হালভিং’- এর জন্য বেশ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন।

অ্যাসেট ম্যানেজার উইজডমট্রি বিটকয়েন এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড বাজারজাত করে। প্রতিষ্ঠানটির গ্লোবাল হেড ক্রিস গ্যানাট্টি বলেন, এ বছর ক্রিপ্টোতে সবচেয়ে বড় ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি বিটকয়ে হালভিং।

চলতি বছরের মার্চ মাসে বিটকয়েনের দাম সর্বোচ্চ ৭৩ হাজার ৮০৩ ডলারে উঠে। এর আগে ২০২২ সালে ক্রিপ্টো মার্কেটে ব্যাপক পতন হয়েছিলো। এ বাজার ঘুরে দাঁড়াতে ২০২৩ সালের পুরো সময় নিয়েছিলো। এরপর চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে ফের ব্যাপকহারে দাম বাড়তে থাকে বিটকয়েনের। শনিবার (২০ এপ্রিল) এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রতিটি বিটকয়েন ৬৪ হাজার ডলারের আশেপাশে লেনদেন হচ্ছিলো।

যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্পট বিটকয়েন এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডের অনুমোদন দেয়। সেইসঙ্গে ফেডারেল রিজার্ভ এ বছর বেশ কয়েকবার সুদহার কমাবে- এমন ধারণা করা হচ্ছিলো। এসবের কারণে ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে।

তথ্য মতে, ২০১২ সালে সর্বপ্রথম বিটকয়েন হালভিং হয়েছিলো। তখন বিটকয়েন মাইনিংয়ের প্রতিটি ব্লকের জন্য পুরস্কার ৫০ বিটকয়েন থেকে কমিয়ে ২৫ বিটকয়েন করা হয়। এরপর দ্বিতীয় হালভিং হয় ২০১৬ সালে। এ সময় প্রতিটি ব্লকের জন্য পুরস্কার আরও কমিয়ে সাড়ে ১২ বিটকয়েন করা হয়। ২০২০ সালের মে মাসে যা আরও কমে মাত্র ৬ দশমিক ২৫ বিটকয়েনে নেমে আসে।

সর্বপ্রথম বিটকয়েন হালভিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরের মাসে বিটকয়েনের ৯ শতাংশ দর বৃদ্ধি পায়। তবে পরের বছর অর্থাৎ ২০১৩ সালে বিটকয়েনের দর বেড়েছিলো ৮ হাজার ৮৩৯ শতাংশ।

দ্বিতীয়বার হালভিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরের মাসে বিটকয়েনের দাম কমেছিলো ১০ শতাংশ। তবে ২০১৭ সালে ২৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিটি বিটকয়েন ২০ হাজার ডলারে উঠেছিলো। এছাড়া ২০২০ সালের বিটকয়েন হালভিংয়ের পরের মাসে ৬ শতাংশ এবং পরের বছর ৫৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

অর্থসূচক/এমএইচ/এএইচআর

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.