মুস্তাফিজ থেকে ভারতের তরুণরা কাটার শিখবে: সুজন

জিম্বাবুয়ে সিরিজের জন্য বাংলাদেশে ফেরার আগে ১ মে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে খেলবেন মুস্তাফিজ। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অনাপত্তি পত্র দেয়া হলেও পাঞ্জাবের বিপক্ষে খেলার জন্য মুস্তাফিজকে একদিন ছুটি বাড়িয়ে দেয় বিসিবি। পাঞ্জাবের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে পরদিন বাংলাদেশে আসবেন মুস্তাফিজ। এরপর ৩ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে যোগ দেবেন বাঁহাতি এই পেসার।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ শেষে কয়েকদিন বিরতি থাকলেও তাকে আইপিএল খেলতে পাঠাবে না বিসিবি। যদিও সাবেক ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান ও বিসিবি পরিচালক আকরাম খানের মতে, মুস্তাফিজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে না খেলে আইপিএলে খেললেই বেশি শিখতে পারতেন তিনি। এ নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে কয়েকদিন আগেই বিবৃতি দেন আকরাম। তারপর ক্রিকেট অপারেশন্সের বর্তমান চেয়ারম্যান জালাল জানান, শুধু জিম্বাবুয়ে সিরিজে খেলা নয়, দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মুস্তাফিজকে ফিরিয়ে আনছেন তারা।

এদিকে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে ক্রিকেট অপারেশন্সের ভাইস-চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘দেশ তো সবার আগে। এটা আমি সবসময়ই বলি। দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার চেয়ে আনন্দ কিছুতেই নেই। তবে সিচুয়েশন যেভাবে ডিমান্ড করে, উনারা যেভাবে চিন্তা করেছেন… আমি আসলে জাতীয় দলের সাথে ওভাবে নেই আসলে। অপারেশন্সের ভাইস চেয়ারম্যান হলেও আমি আবাহনীর খেলার কারণে সেভাবে যাচ্ছি না মিটিংগুলোতে। আমি জানিই না আসলে। অবশ্যই জালাল ভাইরা চিন্তা করেই বক্তব্যটা দিয়েছেন। উনি ক্রিকেট অপারেশন্সের অভিভাবক। উনি যেটা বলেছেন আমাকে ওটাই বলে নিতে হবে যে ওনার কথাই ঠিক। এটাই আমার ধরে নিয়ে যেতে হবে। শেখার সবখানেই আছে। প্রিমিয়ার লিগেও শেখার আছে। আজকে একটা সিনারিও থেকেও শেখার থাকতে পারে। সেটা কোনো সমস্যা নেই। হয়তবা উনি এটাকে ওইভাবে মিন করেননি। উনি বলেছে মুস্তাফিজ এতো বছর ধরে ওখানে খেলছে। মুস্তাফিজ তো এখন আর তানজিম সাকিবের মতো না। ও এখন মুস্তাফিজ। মুস্তাফিজ এখন বিশ্ব ক্রিকেটে অনেক বড় নাম। জালাল ভাই এই এঙ্গেল থেকেই কথাটা বলেছেন যে মুস্তাফিজ অভিজ্ঞ অনেক। ইন্ডিয়ার অনেক তরুণ বোলাররা ওর থেকে কাটার বা কিছু শিখতে পারে। এভাবেই কথাটা বলেছে। এটাকে অন্য কোনও মিন করাটা আমার মনে হয় না ঠিক হবে। তবে আমি মনে করি, দেশ সবার আগে। এটা মাথায় নিতে হবে। মুস্তাফিজ যদি (পুরো আসর) আইপিএল খেলতে পারত আমিও খুশি হতাম। দেশের খেলা না থাকলে আর সমস্যা হতো না। অনেকেই বলবে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররাও আইপিএল খেলছে…ওরা তো (পাকিস্তানে খেলছে)। আমাদের দেশে তো দশটা মুস্তাফিজ নেই আসলে। সবচেয়ে বড় কথা এটাই। এটাও চিন্তা করতে হবে।’

এর আগের দিন জালাল বলেছিলেন, ‘মুস্তাফিজের আইপিএলে শেখার কিছু নাই। মুস্তাফিজের শেখার সময় পার হয়ে গেছে। বরং মুস্তাফিজের থেকে শিখতে পারে আইপিএল খেলোয়াড়রা। এতে বাংলাদেশের কোনো লাভ হবে না। মুস্তাফিজের কাছে পেলে অন্যদের সুবিধা হবে। আইপিএল আপনাদের কাছে মনে হয় শুধুমাত্র ৪ ওভারের খেলা। কিন্তু এটা কি জানেন কতটা ধকল নিতে হয়? খেলা শেষে রাত ১টায় এয়ারপোর্টে ঘুমিয়ে থেকে তাদের ট্রাভেল করতে হয়। এটা অনেক কষ্ট। তারা চাইলে মুস্তাফিজ থেকে শতভাগ নেওয়ার জন্য। মুস্তাফিজের ফিটনেস, স্বাস্থ্য এসব নিয়ে তাদের মাথা ব্যথা নেই, কিন্তু আমাদের আছে। মুস্তাফিজকে এখানে ফেরানোর কারণ শুধু জিম্বাবুয়ে সিরিজের জন্য নয়। জিম্বাবুয়ে সিরিজে আমরা তাকে ওয়ার্ক লোড ঠিক রেখে খেলাব। আইপিএলে থাকলে সেই পরিকল্পনা হবে না। সুতরাং মুস্তাফিজের শেখার অধ্যায় শেষ। মুস্তাফিজকে শেখানোর আর কোনো দরকার নেই। সে সাত-আট বছর ধরে ক্রিকেট খেলে। আইপিএলে খেলে। তো লাভবান তারা হবে, আমরা হব না। মুস্তাফিজকে দেশে ফিরিয়ে আনা মানেই যে আমরা তাকে জিম্বাবুয়ে সিরিজে খেলাব তা নয়। আমরা তাকে ওয়ার্ক লোড দিব, চাপ কমাব, দলের সঙ্গে থাকবে, বোঝাপাড়া বাড়বে। বিশ্বকাপের মতো একটা বড় ইভেন্টে যাচ্ছে, যাওয়ার আগে তো এডজাস্ট করতে হবে। ফিট থাকতে হবে। আই নিড হিম। ফ্রেশ মুস্তাফিজকে চাই। এক্সহস্টেড মুস্তাফিজকে না।’

চেন্নাই সুপার কিংসের জার্সিতে বল হাতে সময়টা বেশ ভালো যাচ্ছে মুস্তাফিজের। ৭ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় সবার উপরে আছেন রাজস্থান রয়্যালসের স্পিনার যুবেন্দ্র চাহাল। ছয় ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে দুইয়ে আছেন জসপ্রীত বুমরাহ। ভারতের এই তারকা পেসারের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে সমান ১০ উইকেট নিয়ে মুস্তাফিজ আছেন তালিকার তিনে।

অর্থসূচক/এএইচআর

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.