তুরস্কের স্থানীয় নির্বাচনে এরদোয়ানের দলের বিপর্যয়

তুরস্কের স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খাচ্ছে প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের একে পার্টি৷ শতভাগ ব্যালট বাক্সের ফলাফলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারায় জয় পেয়েছে বিরোধী সিএইচপি৷

ইস্তাম্বুলের বর্তমান মেয়র, বিরোধী নেতা একরেম ইমামোগ্লু পুননির্বাচিত হতে যাচ্ছেন৷ ভোট গণনা শেষে তেমন আভাসই পাওয়া যাচ্ছে৷ প্রধান বিরোধী দল সিএইচপি শুধু এই শহরেই নয়, জয় পেয়েছে আঙ্কারা ও দেশটির তৃতীয় বড় শহর ইজমিরেও৷

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে ৮১টি শহরে সিএইচপি জয় নিশ্চিত করেছে, যা প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলাপমেন্ট পার্টি-একেপির জন্য বড় ধাক্কা৷

একরেম ইমামোগ্লু সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, আজ আমাদের প্রতিপক্ষ ও প্রেসিডেন্ট উভয়কেই ইস্তাম্বুলের এক কোটি ৬০ লাখ নাগরিক একটি বার্তা দিয়েছেন৷ এজন্য ভোটারদের ধন্যবাদ জানান তিনি৷

এর আগে রোববার কয়েক কোটি তুর্কি নাগরিক মেয়র ও প্রশাসক নির্বাচনে ভোট দেন৷ এরদোয়ানের দল স্বভাবতই কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহরে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই ও জয়ের প্রত্যাশা করেছিল৷ এর মধ্যে ইস্তাম্বুল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাদের জন্য৷ ১৯৯৪ সালে এই শহরের মেয়র হওয়ার মধ্য দিয়েই নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়েছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট৷

ইমামোগ্লু সিএইচপির প্রধান কার্যালেয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘কয়েক লাখ ভোটে আমরা প্রথম স্থানে রয়েছি…আমরা এই নির্বাচনে জয়লাভ করেছি৷’

ইমামোগ্লুর মতো আঙ্কারাতেও একেপিকে ছাড় দেননি বর্তমান মেয়র মনসুর ইয়াভাস৷ সেখানে জয় সম্পর্কে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি বলেন, ‘নির্বাচন শেষ, আমরাই আঙ্কারার সেবা অব্যাহত রাখবো৷’

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মধ্যাম টিআরটির তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় বড় শহর ইজমিরসহ ৮১টি প্রদেশের মধ্যে ৩৬টিতে এগিয়ে আছে বিরোধী সিএইচপি৷

আনাদুলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, সব প্রদেশের গণনা হওয়া ৯০ শতাংশ ব্যালট বাক্সের ফলাফলে সিএইচপি ৩৭ দশমিক তিন-দুই শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছে, যেখানে একেপির ভোট ৩৫ দশমিক সাত-আট শতাংশ৷ ৩৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সিএইচপি দেশজুড়ে এক শতাংশ ভোটে এগিয়ে আছে৷

এদিকে আঙ্কারায় দলের প্রধান কার্যালয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে এই ফলাফলকে দলের জন্য ধাক্কা হিসেবে অভিহিত করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমরা স্থানীয় নির্বাচনে যে ফলাফল প্রত্যাশা করেছিলাম তা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছি৷ আমরা সততার সাথে এই নির্বাচনের ফলাফল মূল্যায়ন করবো …এবং সাহসের সাথে আত্মসমালোচনা করবো৷’

এই নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ছয় কোটি ১০ লাখ, যার মধ্যে দশ লাখের বেশি প্রথমবার ভোটার হয়েছেন৷ আনাদুলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটারের ৭৬ শতাংশ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন৷

২০১৯ সালেও ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারায় জয় পায় সিএইচপি৷ সেবার ইস্তাম্বুলে অনিয়মের অভিযোগ তুলে পুনরায় ভোটের দাবি তুলেছিল দেশটির ক্ষমতাসীন দল৷ একসময় এই শহরটি বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল৷ ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত তিনি ইস্তাম্বুলের মেয়র ছিলেন৷ সূত্র: ডিডাব্লিউ, এএফপি, রয়টার্স

অর্থসূচক/এএইচআর

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.