৫৩১ রানে থামল শ্রীলঙ্কা

চার উইকেটে ৩১৪ রান নিয়ে চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শুরু করেছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের বিপক্ষে ধীরে ধীরে রানের পাহাড় গড়ছে দলটি। দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে তারা অল আউট হয়েছে ৫৩১ রানে। কারণ প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনও ব্যর্থতায় পার করেছে বাংলাদেশের বোলাররা। দিন শুরু করার আধঘণ্টায়ও কোনো সাফল্য পায়নি তারা। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার ধনঞ্জয়া ডি সিলভা এবং দিনেশ চান্দিমাল পঞ্চাশ রানের জুটি স্পর্শ করে ফেলেন।

সময় এগিয়ে যেতে যেতে দুজনই তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। ৮৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন চান্দিমাল। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি তার চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরি। আর সব মিলিয়ে এটি তার ২৬তম হাফ সেঞ্চুরি। দ্বিতীয় দিন অবশ্য ভাগ্যের কিছুটা ছোঁয়া ছিল চান্দিমালের ইনিংসে। খালেদ আহমেদ ও হাসান মাহমুদের ভিন্ন ভিন্ন ওভারে অন্তত তিনবার স্লিপের দিকে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। যদিও বলগুলো ঠিক স্লিপ পর্যন্ত না পৌছানোয় আউট হননি তিনি। সেভাবে সুযোগও পায়নি বাংলাদেশের ফিল্ডাররা।

চান্দিমালের পর হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভাও। সিলেট টেস্টে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির পর এ দিন ৭০ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারের এটি তার ১৪তম হাফ সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয়তম। এ দিন দ্বিতীয় ঘণ্টার শুরুতেই সাকিব আল হাসানের হাত ধরে সফলতা পায় বাংলাদেশ। অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেংথে করা ডেলিভারিতে চান্দিমালকে কট বিহাইন্ড করেন তিনি। চান্দিমাল রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে চাইলেও ব্যাট-বল এক করতে পারেননি।

চান্দিমালের বিদায়ে ৮৯ রানের এই জুটি ভাঙে। উইকেটে আছেন কামিন্দু মেন্ডিস। সিলেট টেস্টের দুই ইনিংসেই দেড়শ ছোঁয়া জুটি গড়েন ধনঞ্জয়া ও কামিন্দু। মধ্যাহ্নভোজ বিরতি শেষ করে আসার পর প্রথম ওভারেই ড্রেসিংরুমে ফিরতে হয় ধনঞ্জয়াকে। খালেদের লেগ স্টাম্পের ওপর ছোঁড়া ডেলিভারিটি ভুল লাইনে খেলেন তিনি। ফলে এলবিডব্লিউ হতে হয় তাকে। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি লঙ্কান অধিনায়ক।

ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, ‘উইকেট’ এর ক্ষেত্রে ‘আম্পায়ার্স কল’ আসে। এক্ষেত্রে আম্পায়ার শুরুতে ‘নট আউট’ দিলে বেঁচে যেতে পারতেন তিনি। ফেরার আগে ছয়টি চার ও দুটি ছক্কায় ১১১ বলে ৭০ রান করেন ধনঞ্জয়া। তারপর কামিন্দুর সঙ্গে যোগ দেন প্রবাথ জয়সুরিয়া। দেখতে দেখতে সপ্তম উইকেটেও পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কা। ১০১ বলে জুটির পঞ্চাশ রান পূর্ণ করেন কামিন্দু ও প্রবাথ। মাঝে অবশ্য দুটি ‘জীবন’ পান প্রবাথ।

ব্যক্তিগত ছয় রানে থাকার সময় খালেদের অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারি ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন প্রবাথ, যা লুফে নিতে ব্যর্থ হয় তিন ফিল্ডার! প্রথম স্লিপে সেটি নিতে ব্যথ হন নাজমুল হোসেন শান্ত। অধিনায়কের হাতে লেগে বল যায় দ্বিতীয় স্লিপে। সেখানে শাহাদাত হোসেন দিপু ব্যর্থ হন। তার হাতে লেগে বল চলে যায় তৃতীয় স্লিপের কাছে। সামনে ঝাপিয়েও সেটি নিতে চাইলেও তা পারেননি জাকির হাসান। তারপর উইকেটরক্ষক লিটনের কাছে ‘জীবন’ পান প্রবাথ।

ব্যক্তিগত ২৪ রানে থাকার সময় তাইজুল ইসলামের একটি ডেলিভারি অফ সাইডে খেলার চেষ্টা করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি, যা মুঠোবন্দী করতে পারেননি লিটন। একটু পর আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত আউট হলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান কামিন্দু। মেহেদী হাসান মিরাজের অফ স্টাম্পের বাইরে করা একটি ডেলিভারি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলার চেষ্টায় পরাস্ত হন তিনি। উইকেটরক্ষক লিটনের গ্লাভসে বল জমা পড়তেই বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের জোরালো আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার।

সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান কামিন্দু। ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ব্যাট থেকে বেশ দূরে ছিল। ৩৫ রানে বেঁচে গিয়ে হাফ সেঞ্চুরিও তুলে নেন তিনি। সিলেট টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটার এই ইনিংসে শ্রীলঙ্কার ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে হাফ সেঞ্চুরি করেন। দলীয় ৪৭৬ রানে প্রবাথের উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। সাকিবের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার আগে ৭৫ বলে ২৮ রান করেন তিনি। তারপর বিশ্ব ফার্নান্দোর ২৬ বলে ১১ রানের ইনিংসে পাঁচশ’র আরও কাছে যায় শ্রীলঙ্কা।

দলীয় ৪৭৬ রানে প্রবাথের উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। সাকিবের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার আগে ৭৫ বলে ২৮ রান করেন তিনি। শেষদিকে খুব বেশি রান তুলতে পারেননি লঙ্কান ব্যাটাররা। তাতে করে ৫৩১ রানে অল আউট হয়েছে সফরকারীরা। বাংলাদেশের হয়ে সাকিব তিনটি উইকেট নিয়েছেন।

অর্থসূচক/এএইচআর

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.